দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে মুক্তির দোয়া ও আল্লাহর ওপর ভরসা
দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে মুক্তির দোয়া ও আল্লাহর ভরসা

মানুষের জীবন সুখ-দুঃখ, সুস্থতা-অসুস্থতা এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার সমন্বয়ে গঠিত। কখনো আমরা সুস্থতার নেয়ামতে পরিপূর্ণ থাকি, আবার কখনো কঠিন রোগ, মহামারি কিংবা দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে পড়ি। চিকিৎসা গ্রহণ করা ইসলামের নির্দেশনা হলেও একজন মুমিন জানে, প্রকৃত আরোগ্যদাতা একমাত্র মহান আল্লাহ। চিকিৎসা কেবল একটি মাধ্যম; আর শিফা আসে আল্লাহর পক্ষ থেকেই। তাই রোগ-ব্যাধির সময় চিকিৎসার পাশাপাশি দোয়া, ইস্তিগফার ও আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখা একজন মুসলমানের অন্যতম দায়িত্ব।

কুরআনের নির্দেশনা

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন— وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ ‘আর যখন আমি অসুস্থ হই, তখন তিনিই আমাকে আরোগ্য দান করেন।’ (সুরা আশ-শু’আরা: আয়াত ৮০) এই আয়াত আমাদের শিক্ষা দেয় যে, সকল রোগের শিফা একমাত্র আল্লাহর কাছেই রয়েছে।

সব ধরনের কঠিন রোগ থেকে আশ্রয়ের দোয়া

নবী করীম (সা.) উম্মতকে বিভিন্ন দুরারোগ্য, সংক্রামক ও ভয়াবহ রোগ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি নিয়মিত এই দোয়া পাঠ করতেন এবং অন্যদেরও পড়তে উৎসাহিত করতেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْبَرَصِ وَالْجُنُونِ وَالْجُذَامِ وَمِنْ سَيِّئِ الْأَسْقَامِ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল বারাসি, ওয়াল জুনুনি, ওয়াল ঝুজামি, ওয়া মিন সাইয়্যিয়িল আসক্বাম।

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে ধবল (শ্বেতী), উন্মাদনা, কুষ্ঠরোগ এবং সব ধরনের কঠিন ও ভয়াবহ রোগ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’ (আবু দাউদ)

এই দোয়াটি নিয়মিত পাঠ করলে আল্লাহর কাছে কঠিন রোগ-ব্যাধি থেকে নিরাপত্তা পাওয়া যায়।

দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে মুক্তির বিশেষ দোয়া

হজরত উসমান ইবনে হুনাইফ (রা.) বর্ণনা করেন, এক অন্ধ ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে তার সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করেন। তখন নবীজি (সা.) তাকে সুন্দরভাবে অজু করে নিম্নোক্ত দোয়াটি পাঠ করতে শিক্ষা দেন—

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ وَأَتَوَجَّهُ إِلَيْكَ بِنَبِيِّكَ مُحَمَّدٍ نَبِيِّ الرَّحْمَةِ، يَا مُحَمَّدُ إِنِّي تَوَجَّهْتُ بِكَ إِلَى رَبِّي فِي حَاجَتِي هَذِهِ لِتُقْضَى لِي، اللَّهُمَّ فَشَفِّعْهُ فِيَّ

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ওয়া আতাওয়াজ্জাহু ইলাইকা বিনাবিয়্যিকা মুহাম্মাদিন নাবিয়্যির রাহমাহ, ইয়া মুহাম্মাদ! ইন্নি তাওয়াজ্জাহতু বিকা ইলা রব্বি ফি হাজাতি হাজিহি লিতুকদা লি, আল্লাহুম্মা ফাশাফফি’হু ফিইয়া।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি এবং তোমার প্রতি মনোনিবেশ করছি তোমার নবী, দয়ার নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর মাধ্যমে। হে মুহাম্মদ! আমি আপনার মাধ্যমে আমার প্রয়োজন পূরণের জন্য আমার রবের দিকে ধাবিত হলাম, যাতে তিনি আমার এই প্রয়োজন পূরণ করে দেন। হে আল্লাহ! আমার ব্যাপারে তার সুপারিশ কবুল করুন।’ (তিরমিজি)

রোগমুক্তির জন্য আল্লাহর ওপর ভরসা

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— مَا أَنْزَلَ اللَّهُ دَاءً إِلَّا أَنْزَلَ لَهُ شِفَاءً ‘আল্লাহ এমন কোনো রোগ অবতীর্ণ করেননি, যার জন্য তিনি শিফার ব্যবস্থাও অবতীর্ণ করেননি।’ (বুখারি) এ হাদিস একজন মুমিনের হৃদয়ে আশা জাগায় যে, যত কঠিন রোগই হোক না কেন, আল্লাহ চাইলে তার আরোগ্যের পথ খুলে দিতে পারেন।

রোগ-ব্যাধি মানুষের জন্য একদিকে পরীক্ষা, অন্যদিকে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার একটি সুযোগ। তাই কোনো রোগে আক্রান্ত হলে হতাশ না হয়ে চিকিৎসা গ্রহণের পাশাপাশি বেশি বেশি দোয়া করা, কুরআন তিলাওয়াত করা এবং আল্লাহর কাছে শিফা কামনা করা উচিত। কারণ পৃথিবীর সব চিকিৎসক একত্রিত হলেও আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কাউকে সুস্থ করতে পারেন না। আবার তিনি চাইলে সবচেয়ে কঠিন রোগ থেকেও মুহূর্তে মুক্তি দিতে পারেন। তাই প্রতিটি মুমিনের মুখে থাকুক দোয়া, অন্তরে থাকুক তাওয়াক্কুল, আর হৃদয়ে থাকুক এই দৃঢ় বিশ্বাস— ‘আল্লাহই একমাত্র শিফাদাতা।’