জাকাত বকেয়া রেখে দান-সাদকা করা যাবে কি? ইসলাম কী বলে
জাকাত বকেয়া রেখে দান-সাদকা করা যাবে কি? ইসলাম বলে

জাকাত ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি ফরজ বিধান। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, 'তোমরা সালাত কায়েম করো এবং জাকাত আদায় কর' (সুরা আল-বাকারা: ৪৩)। অপর আয়াতে তিনি বলেন, 'তাদের সম্পদ থেকে সদকা (জাকাত) গ্রহণ করুন, যার মাধ্যমে আপনি তাদেরকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করবেন' (সুরা আত-তাওবা: ১০৩)। সুতরাং জাকাত কোনো ঐচ্ছিক দান নয়, বরং সম্পদের ওপর আল্লাহর আরোপিত অধিকার।

জাকাত বকেয়া রেখে দান-সাদকা করার বিধান

ফিকহবিদদের মতে, জাকাত বকেয়া থাকা অবস্থায় নফল দান-সাদকা করা জায়েজ। তবে এটি শরিয়তের দৃষ্টিতে মাকরুহ ও দায়িত্বহীনতার পরিচায়ক। কারণ একজন মুসলমানের প্রথম দায়িত্ব ফরজ জাকাত আদায় করা, এরপর নফল দান করা। ফরজ অবহেলা করে নফলে ব্যস্ত থাকা শরিয়তের অগ্রাধিকারকে উপেক্ষা করা।

ফরজের আগে নফল নয়

ইসলামের মৌলিক নীতি হলো ফরজ ইবাদত নফলের ওপর অগ্রাধিকার পায়। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ বলেন, 'আমার বান্দা ফরজকৃত আমলের চেয়ে অধিক প্রিয় কোনো আমলের মাধ্যমে আমার নৈকট্য অর্জন করতে পারে না' (বুখারি ৬৫০২)। তাই জাকাত আদায় না করে দান-সাদকার মাধ্যমে অধিক নেকি আশা করা সঠিক নয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দান-সাদকা কি জাকাতের বিকল্প?

অনেকে মনে করেন নিয়মিত দান করলে জাকাত না দিলেও হবে। এ ধারণা ভুল। জাকাত ফরজ, দান-সাদকা নফল। যেমন কেউ ফরজ নামাজ না পড়ে শুধু তাহাজ্জুদ পড়লে ফরজের দায় থেকে মুক্তি পাবে না, তেমনি জাকাত আদায় না করে দান করলে জাকাতের দায় থেকে মুক্তি মিলবে না।

জাকাত আদায় না করার পরিণতি

আল্লাহ তাআলা বলেন, 'যারা স্বর্ণ ও রৌপ্য সঞ্চয় করে রাখে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দিন' (সুরা আত-তাওবা: ৩৪)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, 'যে ব্যক্তি স্বর্ণ-রৌপ্যের হক (জাকাত) আদায় করবে না, কিয়ামতের দিন তার জন্য আগুনের পাত তৈরি করা হবে' (মুসলিম ৯৮৭)।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মুমিনের করণীয়

  • জাকাত হিসাব করে সময়মতো আদায় করা।
  • পূর্বের বকেয়া জাকাত দ্রুত পরিশোধ করা।
  • জাকাতকে দান-সাদকার বিকল্প না ভাবা।
  • ফরজ দায়িত্ব পালনের পর নফল দান-সাদকায় অংশগ্রহণ করা।
  • সম্পদের প্রকৃত মালিক আল্লাহ—এই বিশ্বাস হৃদয়ে ধারণ করা।

ইসলামে দান-সাদকার মর্যাদা অনেক উঁচু, কিন্তু কোনো নফল আমল কখনো ফরজ ইবাদতের বিকল্প হতে পারে না। জাকাত আল্লাহর নির্ধারিত অধিকার, যা আদায় করা সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য অপরিহার্য দায়িত্ব। তাই জাকাত বকেয়া রেখে দান-সাদকা করা জায়েজ হলেও তা শরিয়তের কাম্য পদ্ধতি নয়। একজন সচেতন মুমিনের উচিত প্রথমে ফরজ জাকাত আদায় করা, তারপর নফল দানের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা। ফরজ আদায়ের পরই নফল আমল প্রকৃত সৌন্দর্য ও মর্যাদা লাভ করে।