পবিত্র সময়গুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দাদের জন্য বিশেষ উপহার। সামান্য আমলেও মিলে অসীম প্রতিদান। তেমনই একটি মহিমান্বিত মাস হলো জিলকদ। পবিত্র কাবা শরিফের ইমাম ও খতিব শায়খ ওসামা বিন আব্দুল্লাহ আল খায়য়াত এই মাসের গুরুত্ব ও আমলের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, যা মুসলমানদের আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতে উদ্বুদ্ধ করে।
জিলকদ মাসের মর্যাদা
জিলকদ ইসলামের চারটি হারাম (সম্মানিত) মাসের একটি। এ মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ নিষিদ্ধ এবং ইবাদতের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। মক্কার মসজিদুল হারামের জুমার খুতবায় শায়খ ওসামা স্মরণ করিয়ে দেন, আল্লাহ যেসব সময় ও স্থানকে সম্মানিত করেছেন, সেগুলোর মর্যাদা রক্ষা করা প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য।
ইবাদতের মাধ্যমে নৈকট্য অর্জন
খতিব বলেন, প্রকৃত ঈমানের প্রকাশ ঘটে যখন বান্দা আল্লাহ নির্ধারিত সময় ও স্থানকে সম্মান করে এবং অধিক ইবাদতে মগ্ন হয়। জিলকদ মাস হজের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই সময় হৃদয় পরিশুদ্ধি, তওবা ও আল্লাহ অভিমুখী হওয়ার উপযুক্ত।
নেক আমলের গুরুত্ব ও গুনাহ থেকে সতর্কতা
এই বরকতময় মাসে নেক আমলের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পায়, আর গুনাহের পরিণতি গুরুতর। তাই তিনি মুসলিম উম্মাহকে সতর্ক করে বলেন:
- বেশি বেশি নফল নামাজ পড়ুন
- রোজা রাখুন
- দান-সদকা করুন
- আল্লাহর জিকির করুন
- কুরআন তিলাওয়াতে মনোযোগ দিন
- গুনাহ থেকে দূরে থাকুন
- আত্মসংযম গড়ে তুলুন
কারণ এই মাসে প্রতিটি কাজের মূল্য আল্লাহর কাছে বিশেষভাবে বিবেচিত হয়।
সৌভাগ্যবান কারা?
খুতবার শেষাংশে শায়খ ওসামা বলেন, সৌভাগ্যবান তারাই যারা পবিত্র সময়ের মর্যাদা উপলব্ধি করে এবং প্রতিটি মুহূর্তকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজে লাগায়। জিলকদ মাস আমাদের আত্মজাগরণের সময়—নিজের ভুল শুধরে নেওয়া, ইবাদতে আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়া। এই মাস যেন ক্যালেন্ডারের অংশ না থেকে পরিবর্তনের সূচনা হয়। আসুন, আমরা বরকতময় দিনগুলোকে অবহেলা না করে ইবাদত, তওবা ও সৎকর্মে ব্যস্ত থাকি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই পবিত্র মাসের যথাযথ মর্যাদা রক্ষার তৌফিক দিন—আমিন।



