ইসলামি শরিয়তে ফ্রি ফায়ারসহ মোবাইল গেম খেলা বৈধ কিনা—এমন প্রশ্ন প্রায়ই তরুণদের মধ্যে উঠে আসে। সম্প্রতি আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ-এর কাছে এক অনুসারী একই ধরনের প্রশ্ন করেন। প্রশ্নকারী জানতে চান, জনপ্রিয় গেম ফ্রি ফায়ার খেলা ইসলামে জায়েজ কিনা।
শায়খ আহমাদুল্লাহর বক্তব্য
জবাবে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানদের জন্য মোবাইল, কম্পিউটার বা অন্য যেকোনো ডিভাইসে গেম খেলা সঠিক নয়। তিনি উল্লেখ করেন, এসব কার্যক্রম মূলত ‘লাগভ’ বা অনর্থক কাজের অন্তর্ভুক্ত, যা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি কুরআন মাজীদের সূরা মুমিনূন-এর ৩ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন—“وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ” অর্থাৎ, যারা অনর্থক বিষয় থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখে, তারাই সফল মুমিন।
গেম খেলে আয় করা প্রসঙ্গে
অনেকেই যুক্তি দেন, গেম খেলে আয় করা সম্ভব। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইসলামি শরিয়াহ যে হালাল উপার্জনের নীতিমালা নির্ধারণ করেছে, গেম খেলে আয় করা সাধারণত সেই নীতির মধ্যে পড়ে না।
গেম খেলার ক্ষতিকর দিক
- সময়ের অপচয় ও আসক্তি: এই গেমগুলো মানুষকে মূল ইবাদত ও দ্বীনি কাজ থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এবং আসক্তিতে পরিণত করে।
- অনৈসলামিক উপাদান: গেমগুলোতে শিরকি উপাদান বা গর্হিত বিষয় থাকতে পারে, যা মুমিনের ঈমানের জন্য ক্ষতিকর।
- পারিবারিক ও সামাজিক ক্ষতি: গেম খেলার কারণে পরিবার, পড়াশোনা ও কর্মক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব পড়ে, যা ইসলামে অপছন্দনীয়।
- হারাম হওয়ার কারণ: এতে জুয়া বা বাজি ধরার সুযোগ থাকলে তা সরাসরি হারাম।
শায়খ আহমাদুল্লাহ আরও বলেন, ইসলাম ধর্মে মুমিনদের জন্য অনর্থক কাজ থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি তরুণদের সময় ও শক্তি দ্বীনি কাজে ব্যয় করার পরামর্শ দেন।



