পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় গায়িকা ও অভিনেত্রী দেবলীনা নন্দী স্বামী প্রবাহ নন্দীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। গতকাল শনিবার দুই আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে বারুইপুর আদালতে যান তিনি। একই সঙ্গে সংবাদ সম্মেলন করে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন।
দাম্পত্য কলহের সূত্রপাত
২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে বিয়ে হয় দেবলীনা নন্দী ও প্রবাহ নন্দীর। বিয়ের পর থেকেই দেবলীনার ওপর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার শুরু হয় বলে অভিযোগ। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে থাইল্যান্ডে হানিমুনে গিয়ে মদ্যপ অবস্থায় দেবলীনাকে মারাত্মক মারধর করেন প্রবাহ। আইনজীবীদের দাবি, প্রবাহ নিয়মিত মদ্যপান ও মাদক সেবন করতেন।
আইনি লড়াইয়ের পথে
চলতি বছরের শুরুতে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন দেবলীনা। তখনই প্রবাহ নন্দীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহের কথা প্রকাশ্যে আসে। গত সপ্তাহে তিক্ত দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুলেছিলেন প্রবাহ। এবার আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেন দেবলীনা। তিনি ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮এ ধারায় বধূ নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করেছেন।
প্রমাণ ও সাক্ষী
আইনজীবীরা জানান, এ ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী রয়েছেন, যিনি আদালতে সাক্ষ্য দেবেন। এ ছাড়া দেবলীনার ওপর চলা অত্যাচারের প্রমাণ হিসেবে বেশ কিছু অডিও ও ভিডিও ক্লিপ এবং মেকআপ দিয়ে ঢাকা কালশিটে দাগের ছবি আদালতে পেশ করা হবে।
প্রবাহের বক্তব্য
দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন প্রবাহ নন্দী। তিনি দাবি করেন, দেবলীনার অনেক অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। কখনোই স্ত্রীকে তাঁর মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার শর্ত দেননি বলে জানান প্রবাহ। তাঁর অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে হাতিয়ার করে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে একপাক্ষিকভাবে দোষী প্রমাণের চেষ্টা করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই পক্ষের সমর্থকেরা বিভক্ত হয়ে পড়েন। দেবলীনা-প্রবাহের সম্পর্ক নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তবে এই বিতর্কের কেন্দ্রে আছে এক দাম্পত্য সম্পর্কের ভাঙন, যার প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে পেশাগত পরিসরেও।



