বড়পর্দায় নতুন করে যাত্রা শুরু হয়েছে জনপ্রিয় অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনার। চলচ্চিত্র ‘ভয়ংকর সুন্দর’-এর পর একের পর এক নতুন চলচ্চিত্রে যুক্ত হওয়ার খবর আসছে তার। আসিফ ইসলাম পরিচালিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’-এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিসরেও ভাবনার উপস্থিতি সম্প্রতি নজর কেড়েছে সবার। বৃহস্পতিবার জানা গেল তাঁর নতুন চলচ্চিত্রে যুক্ত হওয়ার খবর।
মস্কো চলচ্চিত্র উৎসবের অভিজ্ঞতা
৪৮তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের চলচ্চিত্র নিয়ে উপস্থিতির অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েই শুরু করলেন ভাবনা। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, “মস্কোর এক্সপেরিয়েন্স খুবই ভালো ছিল। কানের পর অপেক্ষা করছিলাম একটা বড় মঞ্চের। মস্কো চলচ্চিত্র উৎসবে আমার অভিনীত চলচ্চিত্র নিয়ে উপস্থিত হয়েছি। স্বল্পদৈর্ঘ্যের হলেও চলচ্চিত্রটিতে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা দারুণ ছিল। আমি যখন দেশের বাইরে যাই, চেষ্টা করি ফ্যাশনের মধ্য দিয়ে আমার দেশের সংস্কৃতিকে প্রতিনিধিত্ব করতে। এবারও তাই হয়েছে। আমাদের দেশের ঐতিহ্যবাহী বেনারসি উপস্থাপন করেছি।”
‘ঢাকা ১২০৫’ সিনেমার ঘোষণা
এদিকে, নগরজীবনের বাস্তবতা, স্বপ্ন, সংগ্রাম, প্রেম ও বিচ্ছেদের গল্প নিয়ে নতুন সিনেমা ‘ঢাকা ১২০৫’ নির্মাণ করছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা ওয়ালিদ আহমেদ। সিনেমাটিতে যুক্ত হয়েছেন আশনা হাবিব ভাবনা। তাঁর বিপরীতে দেখা যাবে নবাগত রাকিব হোসেনকে।
নতুন চলচ্চিত্রটি প্রসঙ্গে ভাবনা বলেন, “ঢাকা ১২০৫’-এর কাজ ইতিমধ্যেই প্রায় শেষ। আশি শতাংশের মতো শুটিং হয়ে গেছে। একটি গান ও কিছু ডাবিং বাকি আছে। আমরা চেষ্টা করছি সুন্দর একটি সময়ে চলচ্চিত্রটি সবার সামনে নিয়ে আসতে। অপেক্ষায় আছি।”
সিনেমার শুটিং ও বিষয়বস্তু
সাদামাটা এন্টারটেইনমেন্টের ব্যানারে নির্মিত সিনেমাটির শুটিং হয়েছে রাজধানীর উত্তরা, পুরান ঢাকা ও নবাবগঞ্জের বিভিন্ন লোকেশনে। ‘ঢাকা ১২০৫’-এ মূলত ঢাকার ভেতরের জীবনের অচেনা বাস্তবতাকে সিনেমার ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।
সিনেমাটি প্রসঙ্গে পরিচালক ওয়ালিদ আহমেদ বলেন, “ভাবনা ও রাকিবের খুনসুটি এবং সম্পর্কের রসায়ন পুরো সিনেমাজুড়ে দর্শক দেখতে পাবেন। আমরা চেষ্টা করেছি ঢাকার একেবারে ভেতরের গল্পকে সিনেমার ভাষায় তুলে ধরতে। এই শহরের মানুষের জীবন, আবেগ, সম্পর্ক ও অদেখা বাস্তবতা মিলিয়ে ‘ঢাকা ১২০৫’ দর্শকদের জন্য ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা হবে।”
চলচ্চিত্রটিতে ভাবনার ভূমিকা প্রসঙ্গে নির্মাতা বলেন, “ভাবনা অত্যন্ত নিবেদিত একজন শিল্পী। প্রচণ্ড রোদের মধ্যেও তিনি শুটিং চালিয়ে গেছেন। অন্যদিকে, রাকিব যে কোনো চরিত্রে নিজেকে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারেন।”
পরিচালকের পূর্ব অভিজ্ঞতা
প্রসঙ্গত, এর আগে ওয়ালিদ আহমেদের নির্মিত বিভিন্ন চলচ্চিত্র আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হয়েছে। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে রাজ কাপুর অ্যাওয়ার্ড ও গ্লোবাল ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম ফেস্টিভালসহ একাধিক সম্মাননা। ২০২৩ সালে তাঁর সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ছিল ‘মেঘের কপাট’। এছাড়া ‘সজল ও সিন্ডি’কে নিয়ে নির্মিত সিনেমা ‘জীবন খেলা’ বর্তমানে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।



