২০১০ সালে ‘ইসি লাইফ ম্যাঁয়’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন অভিনেত্রী সন্দীপা ধর। এক দশকের বেশি সময় পেরিয়ে এখন তিনি নতুন করে আলোচনায়। ফেব্রুয়ারিতে মুক্তি পাওয়া ‘দো দিওয়ানে শহর মেঁ’ ছবিতে ‘নয়না’ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের নজর কেড়েছেন তিনি। ক্যারিয়ার, আত্মস্বীকৃতি, সামাজিক চাপ ও স্বজনপ্রীতি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে খোলামেলা কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।
‘নয়না’ চরিত্রের বাস্তবতা
‘দো দিওয়ানে শহর মেঁ’ ছবিতে ‘নয়না’ এমন এক নারী, যার বাহ্যিক জীবন নিখুঁত মনে হলেও ভেতরে লুকিয়ে আছে নিরাপত্তাহীনতা ও গভীর একাকিত্ব। স্বামীর কাছ থেকে স্বীকৃতি পাওয়ার আশায় নিজেকে বারবার বদলানোর চেষ্টা করেন তিনি। সন্দীপা বলেন, ‘বাস্তব জীবনেও অনেক মেয়েকে রূপ-রং নিয়ে অনিরাপত্তায় ভোগানো হয়। সমাজ এমনভাবে চাপ তৈরি করে যে তারা নিজেদের নিয়েই সন্দিহান হয়ে পড়ে।’
ইমেজে পরিবর্তন
রবি উদয়বরের পরিচালনায় ‘দো দিওয়ানে শহর মেঁ’ ছবির মাধ্যমে নিজের ইমেজে পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করেন সন্দীপা। তাঁর ভাষায়, ‘অভয় বা অরোরার তুলনায় নয়না চরিত্রটি আলাদা। এখানে আমি মুম্বাইয়ের আধুনিক, গ্ল্যামারাস ও আত্মবিশ্বাসী এক নারীর ভূমিকায় অভিনয় করেছি।’ ছবির একটি আবেগঘন দৃশ্য তাঁর কাছে ছিল সবচেয়ে কঠিন। ‘আমি গ্লিসারিন ব্যবহার করি না। তাই সেই আবেগে নিজেকে নিয়ে যেতে হয়। কম টেকে নিখুঁতভাবে দৃশ্যটি তুলে ধরার চাপ থাকে,’ বলেন তিনি।
আত্মস্বীকৃতির গুরুত্ব
এই ছবির মূল সুর আত্মস্বীকৃতি। সন্দীপার মতে, ‘সবচেয়ে জরুরি স্বীকৃতি নিজের কাছ থেকে পাওয়া। নিজেকে বলতে হবে, “আমি যেমন, তেমনই যথেষ্ট।” যখন নিজের সঙ্গে খুশি থাকতে শেখা যায়, তখন অন্যের মতামত আর ততটা গুরুত্বপূর্ণ থাকে না।’ ছোটবেলা থেকে তুলনার মধ্যে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। ‘আমরা প্রায়ই শুনে বড় হই—“ওমুকের মতো হও”, “ওর কাছ থেকে শেখো।” তখন না বুঝলেও বড় হয়ে বুঝি, এই তুলনা মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়।’
সামাজিক চাপ ও নারী
নারীদের ওপর সামাজিক চাপ নিয়ে সন্দীপার মন্তব্য, ‘এখনো মেয়েদের বলা হয়, ওজন কমাও, আরও ফরসা হও, ত্বকের যত্ন নাও। আমরা সবাই কোনো না কোনো জায়গায় বৈধতা খুঁজি—পরিবার, সঙ্গী কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে।’
বানসালির প্রযোজনা ও ক্যারিয়ারের অর্জন
সঞ্জয় লীলা বানসালির প্রযোজনায় কাজের সুযোগকে ক্যারিয়ারের বিশেষ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন সন্দীপা। ‘বানসালির সঙ্গে কাজ করার স্বপ্ন প্রত্যেক শিল্পীরই থাকে। এই প্রস্তাব পাওয়ার পর পুরো চিত্রনাট্য না পড়েই রাজি হয়ে গিয়েছিলাম,’ বলেন তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর আবার কাজের সুযোগ পেয়ে নিজেকে ভাগ্যবানও মনে করেন তিনি।
স্বজনপ্রীতি বাস্তবতা
স্বজনপ্রীতি প্রসঙ্গে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তববাদী। ‘অনেক সময় অডিশন দেওয়ার পরও কাজ অন্য কারও কাছে চলে যায়। এতে হতাশা আসতে পারে। তবে এটা শুধু ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে নয়, সব ক্ষেত্রেই ঘটে।’ তাঁর বিশ্বাস, ‘প্রতিটি প্রজেক্টের নিজস্ব ভাগ্য থাকে। যদি কোনো কাজ আপনার জন্য হয়, সেটি একসময় আপনার কাছেই ফিরে আসবে।’
অভিনয়ে আসার গল্প
নিজেকে ‘অ্যাক্সিডেন্টাল অ্যাক্ট্রেস’ বলতেই স্বচ্ছন্দ সন্দীপা। অভিনয়ে আসার গল্প স্মরণ করে বলেন, ‘অভিনেত্রী হওয়ার কোনো পরিকল্পনা ছিল না। কলেজে করা কিছু বিজ্ঞাপন দেখে সুরজ বড়জাতিয়ার টিম আমাকে অডিশনে ডাকে। আমি তাঁর ভক্ত ছিলাম, তাই শুধু তাঁকে দেখার ইচ্ছাতেই অডিশনে যাই।’ পরে তাঁর কাছ থেকেই প্রথম ছবির সুযোগ পান তিনি।
সংবেদনশীল বিষয়ে কাজ
‘ডক্টর অরোরা: গুপ্ত রোগবিশেষজ্ঞ’ সিরিজে সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন সন্দীপা। ‘এই বিষয়টি নিয়ে আমি স্বচ্ছন্দ ছিলাম। গল্পটি সংবেদনশীলভাবে লেখা ও পরিচালনা করা হয়েছে বলেই অস্বস্তি হয়নি। যদিও ব্যক্তিগতভাবে আমি লাজুক, তাই চরিত্রটি আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল।’
আগামী প্রকল্প
সামনে নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাবে তাঁর নতুন সিরিজ ‘চুম্বক’। কমেডি ঘরানার এই সিরিজ নিয়ে আশাবাদী তিনি। ‘“খিচড়ি” ও “সারাভাই ভার্সেস সারাভাই”–এর লেখকেরাই এই শো লিখেছেন। তাই দর্শকেরা ভালো বিনোদন পাবেন,’ বলেন সন্দীপা।
দীর্ঘ পথচলার পর নিজেকে আরও পরিণত মনে করেন এই অভিনেত্রী। সামনে আরও বৈচিত্র্যময় চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরার প্রত্যাশাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য।



