বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেত্রী মীনা কুমারী। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে তার অভিনয় ও সৌন্দর্যে মুগ্ধ ছিল হাজারো দর্শক। ‘ট্র্যাজেডি কুইন’ হিসেবে তার জনপ্রিয়তা ছিল অসাধারণ। সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তার জীবনের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা পুনরায় আলোচিত হয়েছে।
ডাকাতের মুখোমুখি মীনা কুমারী
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে মীনা কুমারীর কালজয়ী সিনেমা ‘পাকিজা’র শুটিং চলাকালীন। সিনেমার পরিচালক ও স্বামী কামাল আমরোহীর সাথে তিনি মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী যাচ্ছিলেন। পথে চম্বলের জঙ্গলে তাদের গাড়ির জ্বালানি শেষ হয়ে যায়।
জনমানবহীন সেই স্থানে হঠাৎ কয়েকটি গাড়ি এসে তাদের ঘিরে ধরে এবং একদল সশস্ত্র ডাকাত গাড়ি থেকে নেমে আসে। ডাকাতদের দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন মীনা ও কামাল। ডাকাত দলের সর্দার অমৃত লাল চম্বল তাদের পরিচয় জানতে চান। কামাল আমরোহী নিজের পরিচয় দিয়ে জানান যে তারা শুটিংয়ের জন্য এসেছেন।
শুটিং শুনে ডাকাতদের রাগ
‘শুটিং’ শব্দটি শুনে প্রথমে ডাকাতরা ক্ষিপ্ত হয়, কারণ তারা ভেবেছিল পুলিশ তাদের ওপর গুলি চালাতে এসেছে। পরে কামাল আমরোহী বুঝিয়ে বলেন যে তারা সিনেমার শুটিং করতে এসেছেন। পরিচয় জানার পর অমৃত লাল কিছুটা শান্ত হন এবং জানতে পারেন অন্য গাড়িতে মীনা কুমারী বসে আছেন।
অমৃত লাল ছিলেন মীনা কুমারীর একজন অন্ধ ভক্ত। তিনি অবিলম্বে অভিনেত্রীর সাথে দেখা করার দাবি জানান এবং তার অটোগ্রাফ চান। কিন্তু সাথে কলম বা কাগজ না থাকায় নিজের হাতের ছুরি বের করেন অমৃত লাল। এতে মীনা কুমারী চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
ছুরি দিয়ে অটোগ্রাফ
ডাকাত সর্দার বলেন, মীনা কুমারী যদি ছুরি দিয়ে তার হাতে নিজের নাম লিখে দেন, তবেই তিনি তাদের গাড়ি ছাড়বেন। অনেকটা বাধ্য হয়েই ছুরি দিয়ে ডাকাতের হাতে নিজের নাম খোদাই করে অটোগ্রাফ দেন মীনা কুমারী। এরপর সেই ডাকাত সর্দার নিজের লোক দিয়ে গাড়িতে পেট্রোল ভরে তাদের চলে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন।
মীনা কুমারীর ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবন
শিশুশিল্পী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা মীনা কুমারী ‘সাহেব বিবি অউর গোলাম’, ‘বৈজু বাওরা’, ‘কাজল’ ও ‘আজাদ’-এর মতো অসংখ্য ব্যবসাসফল সিনেমায় অভিনয় করেছেন। তবে তার ব্যক্তিগত জীবন ছিল বিষাদময়। স্বামী কামাল আমরোহীর সাথে বিচ্ছেদ এবং একাকিত্বের কারণে তিনি মদ্যপানে আসক্ত হয়ে পড়েন। মাত্র ৩৯ বছর বয়সে লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়ে এই কালজয়ী অভিনেত্রীর মৃত্যু হয়।



