ডিবির ৫ কোটি টাকা ডাকাতি মামলায় তদন্তে বড় গাফিলতি, ফাঁকফোকরে পার পাচ্ছেন প্রকৃত দোষীরা
ডিবির ৫ কোটি টাকা ডাকাতি: তদন্তে গাফিলতি, ফাঁকফোকরে পার পাচ্ছেন দোষীরা

ডিবির আলোচিত '৫ কোটি টাকার ডাকাতি বাণিজ্য' মামলায় তদন্তের নামে প্রহসনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী ও পদস্থ কর্মকর্তাদের আড়াল করতে পরিকল্পিতভাবে তদন্তে রাখা হয়েছে নানা ফাঁকফোকর, যার সুযোগে প্রকৃত হোতারা পার পেয়ে যাচ্ছেন। প্রাথমিক তদন্ত থেকে বিভাগীয় কার্যক্রম—সব পর্যায়েই একই চিত্র দেখা গেছে। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রমাণ সংগ্রহ ও ফরেনসিক প্রক্রিয়ার গুরুতর ত্রুটির কারণে শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ে অভিযুক্তরা দায়মুক্তি পেতে পারেন, যা পুরো ঘটনাকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হাতেনাতে ধরা পড়া প্রভাবশালী কর্মকর্তারা পার পেয়ে যাওয়ায় কেবল পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়নি; ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রবণতা আরও বাড়বে। এতে সৎ, দক্ষ ও পেশাদার কর্মকর্তারা ভালো কাজ করার উৎসাহ হারিয়ে ফেলবেন।

ঘটনার সূত্রপাত

২০২০ সালের ১৯ অক্টোবর রাজধানীর কাওলায় সৌদি প্রবাসী রোমান মিয়ার প্রায় ৫ কোটি টাকা ডাকাতির নেতৃত্ব দেন সিআইডির তৎকালীন এসআই আকসাদুদজামান। তার সঙ্গে ছিলেন পেশাদার ডাকাতচক্রের সদস্যরা। বিষয়টি ডিএমপির ডিবিকে জানানো হলে অসৎ উদ্দেশ্যে মামলা হয় ৪ লাখ ৭৮ হাজার টাকা ডাকাতির অভিযোগে। তদন্তে নেমে ডাকাতদের কাছ থেকে ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা আদায় করা হয়। পরে ওই টাকা ভাগ করে নেন ডিবির তৎকালীন দায়িত্বশীলরা। পদস্থ কর্মকর্তাদের নির্দেশে টাকা আদায়ের নেতৃত্ব দেন ডিবির তৎকালীন এডিসি কায়সার রিজভী কোরায়েশী।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

২০২১ সালে এ সংক্রান্ত একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে কোরায়েশীর উদ্দেশে আকসাদুদজামানের স্ত্রী তাহমিনা ইয়াসমিনকে বলতে শোনা যায়, '১ কোটি ২৮ লাখ টাকা তো নিয়েছেন আপনারা সবাই। আপনাকে ব্যক্তিগতভাবে ১৪ লাখ দিইনি?'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিভাগীয় তদন্ত ও প্রশ্ন

ঘটনাটি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্ত শেষে বিভাগীয় মামলা হয়। এ মামলায় ১০ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিএমপি মতিঝিল ট্রাফিক পুলিশের উপকমিশনার দেওয়ান জালাল উদ্দিন চৌধুরী। এই প্রতিবেদনে প্রাথমিক তদন্তের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে লিখিত ব্যাখ্যায় কোরায়েশী বলেন, একটি অডিও রেকর্ডের ভিত্তিতে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। অডিও রেকর্ডিংকে নির্ভরযোগ্য হিসাবে গণ্য করতে হলে তার উৎস নিশ্চিত হওয়া জরুরি। কিন্তু আলোচিত অডিওটির উৎস যাচাই করতে পারেনি তদন্ত কমিটি। অডিওর 'চেইন অব কাস্টডি' বা হেফাজতের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা হয়নি। এক্ষেত্রে টেম্পারিংয়ের যথেষ্ট আশঙ্কা আছে। মামলার সাক্ষীদের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

কোরায়েশী আরও বলেন, 'তদন্ত প্রতিবেদনে ৩৭ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩ জনই আমার পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন। আর চারজন আমার বিপক্ষে দিয়েছেন। অধিকাংশ সাক্ষীর মতামত গুরুত্ব না দিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা বিশেষ উদ্দেশ্যে ডাকাতদলের পক্ষে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।'

ফরেনসিক ত্রুটি

ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা বলেন, একজন এডিসির একার পক্ষে এ ধরনের একটি সিরিজ অপকর্ম কোনোভাবেই সম্ভব না। এক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠাতিক অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। বিভাগীয় তদন্তে কেবল এডিসি বা তার নিম্ন পদের লোকদের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করে মূলত প্রকৃত বিষয়টিকে আড়াল করা হয়েছে। অডিও রেকর্ডের মাধ্যমে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করতে হলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় ফরেনসিক পরীক্ষা করতে হবে। এক্ষেত্রে তা করা হয়নি। উচিত ছিল রেকর্ডকৃত ফোন, বাদীর ফোন এবং কোরায়েশীর ফোন জব্দ করা। কিন্তু তাদের ফোন জব্দ করা ছাড়াই কেবল অডিও রেকর্ডের ফরেনসিক করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, কোরায়েশীর কণ্ঠের সঙ্গে ওই অডিও রেকর্ডের মিল পাওয়া গেছে। এআই-এর মাধ্যমেও হুবহু এ ধরনের কথোপকথন তৈরি করা যায়।

আর্থিক গরমিল

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৫ কোটি টাকার একটি ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও অসৎ উদ্দেশ্যে মামলায় তা দেখানো হয়েছিল ৫ লাখেরও কম। শুধু তাই নয়, ডাকাতির ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা উদ্ধারের পর আদালতে দেখানো হয় মাত্র ৩ লাখ ৫ হাজার টাকা; বাকি অর্থ আত্মসাৎ করেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের তৎকালীন শীর্ষ কর্মকর্তারা। অথচ তদন্তে শুধু এক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও নিচের দিকের পাঁচ পুলিশ সদস্যকে দায়ী করা হয়েছে। ডিবির তৎকালীন যুগ্মকমিশনার মাহবুব আলমের তত্ত্বাবধানে পুরো ঘটনা ঘটলেও এবং ডিএমপি কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতনরা সব জানলেও তদন্ত প্রতিবেদনে রহস্যজনকভাবে তাদের দায় এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) একেএম আওলাদ হোসেন বলেন, 'এতকিছু হয়ে গেছে, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আপনি না বললে তো আমি জানতাম না। আমার কাছে যদি এ সংক্রান্ত কোনো প্রতিবেদন আসে, তাহলে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।'

তৎকালীন ডিবির অবস্থা

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অপকর্মের এক স্বর্গরাজ্য হিসাবে পরিচিত হয়ে উঠে ডিবি। অসামিদের ধরে এনে দিনের পর দিন আটকে রেখে রীতিমতো মুক্তিপণ আদায় করা হতো। ডিবি কার্যালয়ের ভেতর বহুতল ভবন নির্মাণের নামেও গ্রেফতার হওয়া অপরাধীদের কাছ থেকে আদায় করা হতো মোটা অঙ্কের টাকা। টাকা তোলার দায়িত্বে ছিলেন ডিবির তৎকালীন ডিসি, এডিসি ও সহকারী কমিশনাররা। সহযোগীর ভূমিকায় ছিলেন নিম্নপর্যায়ের ডিবি সদস্যরা। আর মূল সমন্বয়কারী ছিলেন যুগ্মকমিশনার পদমর্যদার কর্মকর্তারা।

যুগান্তরের প্রতিবেদন

২০২৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি যুগান্তরে 'আসামি ছেড়ে দিতে অভিনব মুক্তিপণ/ডাকাতদের ৬ স্ত্রীর কাছ থেকে ডিবি টিমের ঘুসবাণিজ্য' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ডাকাতদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের ঘটনা জানাজানি হলে ডিবির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এরই অংশ হিসাবে মামলার বাদীর কাছ থেকে একটি স্ট্যাম্পে লিখিত নেন। যেখানে লেখা আছে, 'আমার (বাদী) করা মামলায় এক কোটি ৪২ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে ডিবি। আমি খুশি হয়ে পুরো টাকা ডিবিকে দান করলাম।'

স্বরাষ্ট্র ও পুলিশ সদর দপ্তরের প্রতিবেদন

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আকাসাদুদজামানসহ অপর আসামিরা ডিবি হেফাজতে থাকাকালে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়। এর মধ্যে আসামি মোশারফের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা, সেলিম মোল্লার কাছ থেকে সাড়ে ৩৭ লাখ টাকা, রিপন মোড়লের কাছ থেকে চার লাখ টাকা, রাজু মিয়ার থেকে সাত লাখ টাকা, আমির হোসেন থেকে সাড়ে ১৬ লাখ টাকা এবং আকাসাদুদজামানের কাছ থেকে ৩৩ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরে সবার টাকা একত্র করে একটি ব্যাগে ভরে আকসাদুদজামানের বাসায় পাঠানো হয়। এরপর আকসাদুদজামানের বাসায় অভিযান চালিয়ে সেই টাকা উদ্ধার করা হয়। আকসাদুদের বাসায় যাওয়া এবং সেখান থেকে ডিবি কার্যালয়ে পৌঁছা পর্যন্ত এডিসি কোয়ায়েশী বারবার ডিবির যুগ্ম-কমিশনার মাহবুবের সঙ্গে কথা বলেন। মাহবুবের নির্দেশনা অনুযায়ীই পুরো কাজ করেন কোরায়েশী। টাকা আদায়ের পর সবাইকে ছেড়ে দেওয়ার কথা থাকলেও ডিবি তা করেনি। মূলত এ কারণেই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

পুলিশ সদর দপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি ও বর্তমানে ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি আতাউল কিবরিয়া তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ডাকাতি মামলার আসামি সেলিম মোল্লাহ, রিপন মোড়ল, গোলাম মাওলা ও আমির হোসেন তালুকদারদের গ্রেফতার করে আদালতে হাজির না করে অবৈধভাবে প্রায় ১০ দিন ডিবি অফিসে আটকে রাখা হয়েছিল।

তৎকালীন ডিসির বক্তব্য

ঘটনার সময় ডিবির সংশ্লিষ্ট বিভাগের ডিসি ছিলেন কাজী শফিকুল আলম। বর্তমানে তিনি ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি অফিসে সংযুক্ত। তিনি সাক্ষ্যে বলেন, ওই সময় কায়সার রিজভী কোরায়েশী যা করেছেন সবই তৎকালীন যুগ্ম-কমিশনার মাহবুব আলমের নির্দেশেই করেছেন। সবকিছুর সমন্বয়ক ছিলেন মাহবুব আলম। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিএমপি কমিশনারও বিষয়টি জানতেন। মূলত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ছাড়া বা ডিবির প্রচলিত বিধিবিধানের পরিপন্থি কোনো কাজ কোরায়েশী করেছে বলে তার জানা নেই।

যুগ্ম কমিশনারের স্ববিরোধী বক্তব্য

তদন্ত কর্মকর্তার কাছে সাক্ষ্যকালে ডিবির তৎকালীন যুগ্ম-কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, অন্য কর্মকর্তাদের পরামর্শে তিনি বিষয়টি তৎকালীন ডিএমপি কমিশনারকে অবহিত করেন। ডিবি কর্তৃপক্ষের অজ্ঞাতে বিধিবিধানের বাইরে কোরায়েশী কোনো কাজ করেছেন, এমন কিছু তার দৃষ্টিগোচর হয়নি। তবে তিনি যুগান্তরকে বলেন, 'ঘটনা তো জেনুইন। ওটা তো আর মিথ্যা না। ওটা সত্য।' ঘটনা যেহেতু সত্য তাহলে তদন্তকালে তা স্বীকার করলেন না কেন-জানতে চাইলে মাহবুব আলম বলেন, 'যে ঘটনা ঘটেছে সেটি ঠিক আছে। কিন্তু পরবর্তী হ্যান্ডলিং ঠিক ছিল না। ওটা আমি বলেছি।'

বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের মতামত

তদন্ত প্রতিবেদনের মতামতে বিভাগীয় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দেওয়ান জালাল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। পারিপার্শ্বিক ঘটনা বিশ্লেষণ করে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যায়। তবে সুস্পষ্ট প্রমাণের অভাবে এ বিষয়ে স্থির সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া প্রায় অসম্ভব। যে কোনো ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ প্রামাণ্য দলিল হিসাবে স্বীকৃতি পেয়ে থাকে। কিন্তু ঘটনার ৬ বছর পর সিসিটিভি ফুটেজ কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে। এ ধরনের বিভাগীয় মামলায় মোবাইল ফোন সিডিআর অভিযোগ প্রমাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু বাংলাদেশের মোবাইল অপারেটরগুলো সাধারণত এক বছরের বেশি সময় সিডিআর সংরক্ষণ করে না। কাঙ্ক্ষিত নয়টি সিডিআরের মধ্যে মাত্র একটি সিডিআর পাওয়া গেছে। এছাড়া সাক্ষীরা পরস্পর সাংঘর্ষিক ও বিপরীতধর্মী বক্তব্য দিয়ে অভিযোগ প্রমাণের প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছেন।

তদন্ত কর্মকর্তা দেওয়ান জালাল উদ্দিন চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, 'আমি আমার প্রতিবেদনে কাউকেই শাস্তির আওতায় আনার সুপারিশ করিনি। আগের তদন্ত কর্মকর্তা যে প্রতিবেদন দিয়েছেন সেটি সঠিক ছিলা কিনা, কেবল তা যাচাই করেছি। সুপারিশগুলো আগের তদন্ত কর্মকর্তার। আমি কেবল ওই সুপারিশগুলো সঠিক বলে উল্লেখ করেছি।'

তিনি আরও বলেন, 'এই অনিয়মের সঙ্গে ডিবির তৎকালীন কনস্টেবল থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা জড়িত। তবে আমার তদন্তের বিষয় ছিল কেবল কোরায়েশী। তিনি অতিরিক্ত এসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তা। ঊর্ধ্বতন যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তারা আমার চেয়ে অনেক সিনিয়র। আমি একজন এসপি হয়ে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পারি না। কোরায়েশী যেহেতু আমার জুনিয়র সে কারণে আমি কেবল তার বিষয়টিই দেখেছি। বিধি অনুযায়ী নিচের পদের কর্মকর্তা উপরের পদের কর্মকর্তার তদন্ত করতে পারেন না।'

কোরায়েশীর অডিওর ফরেনসিক পরীক্ষা আদালতের নির্দেশে নেওয়া হয়েছে কিনা এবং ফরেনসিক পরীক্ষার আগে সংশ্লিষ্ট মোবাইল ফোন বা ডিভাইসগুলো জব্দ করা হয়েছিল কিনা জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ফরেনসিক পরীক্ষাটি প্রাথমিক তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির মাধ্যমে করিয়েছেন। বিষয়টি এখনো আদালত পর্যন্ত গড়ায়নি।