দক্ষিণ কোরীয় র্যাপার লি ইয়ং-জি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি পোস্ট করে বিতর্কের মুখে পড়েছেন। ছবিতে তার রাঙানো লাল চুলের সঙ্গে মিলিয়ে লাল রঙের পোশাক পরা দেখা যায়। ছবিটির সঙ্গে ‘করটিস’ ব্যান্ডের ‘রেডরেড’ গানটি জুড়ে দেন তিনি।
লাল রঙের রাজনৈতিক তাৎপর্য
দক্ষিণ কোরিয়ায় লাল রং সাধারণত ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল পিপল পাওয়ার পার্টির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই লি ইয়ং-জির পোস্টটি দলটির সমর্থনে রাজনৈতিক ইঙ্গিত বহন করছে বলে অনেকে মন্তব্য করেন। আসন্ন ৩ জুনের নির্বাচনকে সামনে রেখে এই বিতর্ক আরও তীব্র হয়।
ক্ষমা ও চুলের রঙ পরিবর্তন
বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ার পরদিনই লি ইয়ং-জি চুল কালো রঙে ফিরিয়ে আনেন এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা চান। তিনি বলেন, নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ সময় সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন, কিন্তু ভক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের তাড়না থেকে আগপাছ না করেই পোস্ট করেছিলেন। লি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি আত্মসমালোচনা করব, শিখব এবং ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকব। আমার অসতর্ক আচরণের জন্য আমি দুঃখিত।’
পূর্ববর্তী ঘটনা
এটি প্রথমবার নয় যে দক্ষিণ কোরিয়ায় তারকারা রঙ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কে জড়াচ্ছেন। গত বছরের মে মাসে গার্ল গ্রুপ অ্যাসপার সদস্য কারিনা লাল গোলাপের ইমোজি ও ‘২’ নম্বর লেখা লাল পোশাকের ছবি পোস্ট করে সমালোচিত হন। তিনি পরে জানান, তার কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না এবং ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকবেন। একই সময়ে টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব হং জিন-কিয়ংও লাল পোশাক নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন এবং ব্যাখ্যা দিতে বাধ্য হন।
দক্ষিণ কোরিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্দিষ্ট রং ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকায় তারকাদের পোশাক, অ্যাকসেসরিজ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট প্রায়ই পরোক্ষ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে, জনসাধারণের ব্যক্তিত্বদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন, বিশেষ করে নির্বাচনের মতো সংবেদনশীল সময়ে।



