প্রবীণ তেলুগু অভিনেত্রী পাবলা শ্যামল, যিনি চার দশক ধরে পর্দায় দর্শকদের হাসিয়েছেন, বাস্তব জীবনে চরম অর্থাভাব ও অবহেলার শিকার হয়েছেন। সম্প্রতি হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে গেলে চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে না পারায় তাকে ভর্তি না করে ট্যাক্সিতে করে ফেরত পাঠানো হয়। ট্যাক্সিচালক গভীর রাতে তাকে রাস্তার মোড়ে ফুটপাতে নামিয়ে দিয়ে চলে যান।
পুলিশের উদ্ধার ও দাতব্য সংস্থায় আশ্রয়
ফুটপাতে একা ও অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে ‘আরকে ফাউন্ডেশন’ নামের একটি দাতব্য সংস্থায় নিয়ে যায়। ফাউন্ডেশনের ডক্টর রামকৃষ্ণ জানান, বিগত দুই-তিন বছর ধরে তারা বিনামূল্যে চিকিৎসা দিলেও হৃদরোগের বিশেষায়িত চিকিৎসার অভাবে তাকে বাইরে যেতে হয়েছিল।
প্রযোজক দিল রাজুর সহায়তা
খবরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে খ্যাতনামা দক্ষিণী প্রযোজক দিল রাজু তাৎক্ষণিকভাবে একটি টিম পাঠিয়ে পাবলা শ্যামলের উন্নত চিকিৎসার সমস্ত ব্যবস্থা ও ব্যয়ভার গ্রহণ করেন। একটি ভিডিওতে অভিনেত্রী ও তার কন্যা দিল রাজুর সাহায্যের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট
পাবলা শ্যামলের আর্থিক সংকট নতুন নয়। ১৯৮৫ সাল থেকে অভিনয় করলেও গত কয়েক বছর ধরে তিনি ও তার পরিবার চরম দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। গত বছরের ডিসেম্বরে থাকার জায়গা হারিয়ে রাস্তায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। একপর্যায়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিলে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে দাতব্য আশ্রমে পাঠায়।
পূর্বের সহায়তা
২০২১ সালে পরিচালক জুটি রাজ অ্যান্ড ডিকে ক্রাউডফান্ডিংয়ের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করেন। তখন জানা যায়, তার একমাত্র কন্যা যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী, এবং চিকিৎসার খরচ চালাতে নিজের সব পুরস্কার ও ট্রফি বিক্রি করেছিলেন তিনি। এছাড়াও চিরঞ্জীবী, পবন কল্যাণ, আল্লু অর্জুন প্রমুখ তারকা তাকে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সাহায্য করেছিলেন।
চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার
‘গোলিমার’, ‘খাড়গাম’, ‘আন্ধ্রাওয়ালা’, ‘বর্ষম’-এর মতো জনপ্রিয় তেলুগু সিনেমায় কমেডি চরিত্রের জন্য পরিচিত পাবলা শ্যামল। তার কিছু দৃশ্য বর্তমানে মিম হিসেবে সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয়। ২০১৯ সালে ‘মাথু ভাদালারা’ সিনেমায় শেষবার বড় চরিত্রে দেখা যায় তাকে।



