ঝির রায়হানের পাঠকনন্দিত উপন্যাস ‘শেষ বিকেলের মেয়ে’ নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে ময়মনসিংহ বন্ধুসভা। ১২ মে বিকেলে নগরীর গভ. ল্যাবরেটরিজ হাইস্কুল মাঠে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
উপন্যাসের বিষয়বস্তু
পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক আল ইমরান বলেন, ‘এটি এমন একটি উপন্যাস, যেখানে ভালোবাসা আছে, অভিমান আছে, স্বপ্নভঙ্গ আছে, আর আছে মানুষের মনের গভীরতম অনুভূতির নিঃশব্দ আর্তনাদ। সম্পর্কের টানাপোড়েনে জীবনের এমন কিছু অপূর্ণতা, যা মানুষ চাইলেই পূর্ণ করতে পারে না।’
পুরো উপন্যাসে ষাটের দশকে পূর্ববঙ্গে কেরানি তথা মধ্যবিত্ত জীবনসংগ্রামের অধুনা রূপটি নিয়ে দাঁড়িয়ে গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র কাসেদ। কাসেদ ভালোবাসে জাহানারাকে। অবশ্য ভালোবাসার কথা জাহানারাকে কখনোই জানাতে পারেনি সে। কিন্তু স্বপ্ন দেখে একদিন বিয়ে করবে জাহানারাকে। তাদের ছোট্ট একটি বাড়ি হবে, শহরে নয় শহরতলিতে। যেখানে আছে নীল–সবুজের সমারোহ। নিরালা পথে দুজনে গল্প করবে, কথা বলবে। রাতের বেলা বাঁকানো বারান্দায় বসে দুজনে চায়ের কাপে ঠোঁট ছোঁয়াবে। কিন্তু মধ্যবিত্ত কাসেদের কাছে উচ্চবিত্ত ঘরের জাহানারা শুধু স্বপ্নই থেকে যায়।
চরিত্র বিশ্লেষণ
জেন্ডার ও সমতাবিষয়ক সম্পাদক তুরাব্বি তাবাসসুম বলেন, ‘গল্পজুড়ে কাসেদের কল্পনা আর বাস্তবের দোদুল্যমান ভাব খুবই বাস্তবিক লেগেছে। কেরানি কাসেদের জীবনে আসা তিনজন নারী জাহানারা, শিউলি ও সালমা—কাউকেই সে ভালোবাসার বন্ধনে বাঁধতে পারেনি। সালমা যখন কাসেদের কাছে দূরে কোথাও নিরুদ্দেশে হয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়, তখনো সে নির্বাক ছিল। এমনকি জাহানারাকেও স্ত্রী বানাতে ব্যর্থ হয়। শিউলির কাছ থেকে পেয়েছিল মৃদু অপমানজনক প্রত্যাখ্যান। অথচ শিউলির কাসেদের প্রতি আচরণের জন্যই জাহানারা আর কাসেদের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। জাহানারা ও শিউলি দুজনেই উচ্চবিত্ত পরিবারের আধুনিক মেয়ে, তবে দুজনেই কাসেদের প্রতি দুর্বল, এটা অস্বীকার করতে পারি না কেন জানি।’
ময়মনসিংহ বন্ধুসভার সভাপতি এই কার্যক্রমের আয়োজন করেন। বন্ধুসভার পাঠচক্র নিয়মিতভাবে সাহিত্য আলোচনার আয়োজন করে থাকে।



