রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোড ধরে হাঁটতে হাঁটতে ছাত্রজীবনের নানা গল্প শোনাতেন বাবা। শৈশবের সেই স্মৃতি আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে নিজের ক্যাম্পাস জীবন কাটাচ্ছেন তিনি।
বাবার ছাত্রজীবনের পথে
বাবা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৯৬-৯৭ শিক্ষাবর্ষের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। ছোটবেলায় বাবার মোটরসাইকেলে চড়ে ক্যাম্পাস ঘুরে বেড়ানো ছিল প্রিয় কাজ। মতিহারের সবুজ চত্বর, শহীদ মিনার, প্যারিস রোড—সবই যেন নিজের গল্প হয়ে উঠেছিল। এখন নিজেই সেই একই হলের শিক্ষার্থী। শহীদ জিয়াউর রহমান হলের করিডর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে মনে হয়, কয়েক দশক আগে বাবা হয়তো এই পথেই বন্ধুদের সঙ্গে হেঁটেছেন।
ভূমিকার পরিবর্তন
সময়ের সঙ্গে ভূমিকারও পরিবর্তন হয়েছে। ছোটবেলায় পয়লা বৈশাখে বাবার হাত ধরে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অনুষ্ঠানে যেতেন। এখন তাঁর বিভাগের অনুষ্ঠান দেখতে আসেন বাবা। গত পয়লা বৈশাখে বিভাগের র্যালিতে তিনি বর সেজেছিলেন। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নাটকে ‘মন্টু ঘটক’ চরিত্রে অভিনয় করেন। মঞ্চে দাঁড়িয়ে অভিনয় করার সময় দর্শকসারিতে বাবাকে দেখে তাঁর মুখের হাসি আজও মনে পড়ে।
উত্তরাধিকার ও ভালোবাসা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের কাছে শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটা স্মৃতি, স্বপ্ন, ভালোবাসা আর উত্তরাধিকারের নাম। বাবার হাত ধরে যে ক্যাম্পাসে প্রথম পথচলা শুরু হয়েছিল, আজ সেই ক্যাম্পাসেই নিজের পরিচয় গড়ে তুলছেন। বাবা দিবসে এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।



