প্রথম বিয়ে গোপন রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করতে গিয়ে ক্ষতিপূরণ দিয়ে ছাড়া পেয়েছেন নেত্রকোনার মদন উপজেলার সাব্বির আহমেদ সাদান (২৫) নামের এক ছাত্রদল নেতা। শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যায় কেন্দুয়া উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার ঠিক আগে প্রথম স্ত্রীর পরিবারের লোকজন বিষয়টি জানালে বিয়ে পণ্ড হয়ে যায়। পরে ক্ষুব্ধ স্থানীয় লোকজন বর ও তার পক্ষের কয়েকজনকে আটকে রাখেন। পরে এদিন গভীর রাতে দীর্ঘ আলোচনার পর ক্ষতিপূরণ দিয়ে মুক্তি পান তারা।
ছাত্রদল নেতার পরিচয় ও প্রথম বিয়ের ঘটনা
সাব্বির আহমেদ সাদান নেত্রকোনার মদন উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের ছাত্রদলের সভাপতি ও বাঘমারা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মদন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আসাদুজ্জামন আজাদের ছেলে। স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে প্রতিবেশী ধনাই মিয়ার মেয়ে আইমনা আক্তারকে গোপনে বিয়ে করেন সাব্বির আহমেদ। বিষয়টি দীর্ঘদিন গোপন রাখা হয়।
দ্বিতীয় বিয়ের আয়োজন ও পণ্ড হওয়া
এ অবস্থায় পারিবারিকভাবে কেন্দুয়া উপজেলার কৃষক দলের সভাপতি শাজাহান মিয়ার কলেজ পড়ুয়া মেয়ের সঙ্গে তার বিয়ে ঠিক হয়। নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী শুক্রবার বিকেলে আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের নিয়ে বরযাত্রীসহ কনের বাড়িতে যান সাব্বির। বরযাত্রীদের আপ্যায়ন ও খাবার পরিবেশনের পর সন্ধ্যায় বিয়ে পড়ানোর প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় প্রথম স্ত্রী মুঠোফোনে কনের বাবাকে সাব্বিরের আগের বিয়ের বিষয়টি জানান। পরে প্রথম স্ত্রীর পরিবারের কয়েকজন সদস্যও সেখানে উপস্থিত হন।
একাধিক সূত্রে জানা যায়, বিষয়টি জানাজানি হলে কনের পরিবারের সদস্যরা বিয়ের আয়োজন স্থগিত করেন। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন বরপক্ষের কয়েকজনকে আটকে রাখেন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হয়। বিয়ের আয়োজন বাবদ হওয়া খরচের কিছু অংশ ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার পর দিবাগত রাত দুইটার দিকে বরপক্ষের লোকজন ছাড়া পান।
প্রতিক্রিয়া ও হামলার অভিযোগ
এ বিষয়ে কনের বাবা কৃষক দলের নেতা বলেন, ‘ছেলেটি আগে বিয়ে করেছে-এ তথ্য আমাদের জানা ছিল না। বিষয়টি জানার পর মেয়ের বিয়ে আর দেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’ এদিকে বিয়ে পণ্ড হওয়ার ঘটনার জের ধরে শনিবার সকালে প্রথম স্ত্রীর বাড়িতে সাব্বির আহমেদের সমর্থকরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসময় প্রথম স্ত্রীর বড় বোন আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
সাব্বির আহমেদের প্রথম স্ত্রী বলেন, ‘২০২২ সালে আমাদের বিয়ে হয়। সাব্বিরের অনুরোধে বিষয়টি এত দিন গোপন রাখা হয়েছিল। কিন্তু তিনি আবার বিয়ে করতে গেলে বাধ্য হয়ে বিষয়টি জানাই। পরে আমাদের বাড়িতে হামলা করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করতে হয়েছে।’ সাব্বির আহমেদের বাবা আসাদুজ্জামান আজাদ বলেন, ‘ছেলে যে আগে বিয়ে করেছে, সেটা আমার জানা ছিল না। আগে জানলে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো না। ক্ষতিপূরণ হিসেবে আমাকে একটা বড় অঙ্কের টাকা দিতে হয়েছে।’
এ বিষয়ে মদন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অসীম কুসার দাস বলেন, ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বিয়েকে কেন্দ্র করে এক নারীকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



