‘এটা আমাদেরই গল্প’ নাটকের সমাপ্তি ঘোষণা, দর্শকদের হৃদয় জয় করে ইতিহাস সৃষ্টি
‘এটা আমাদেরই গল্প’ নাটকের সমাপ্তি, দর্শকদের হৃদয় জয়

‘এটা আমাদেরই গল্প’ নাটকের সমাপ্তি ঘোষণা, দর্শকদের হৃদয় জয় করে ইতিহাস সৃষ্টি

ঢাকার ধারাবাহিক নাটকের জগতে একসময় ব্যাপক জনপ্রিয়তা ছিল, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিদেশি ধারাবাহিকের প্রতি দর্শকদের ঝোঁক বাড়তে থাকে। তবে সম্প্রতি সেই চিত্র বদলাচ্ছে, এবং আবারও পরিবারকেন্দ্রিক দেশি নাটক দর্শকদের মন জয় করছে। এর মধ্যে মোস্তফা কামাল রাজের নির্মিত ‘এটা আমাদেরই গল্প’ ধারাবাহিকটি বিশেষভাবে আলোচিত হয়ে উঠেছে। দর্শকরা বলছেন, এই নাটকটি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দেখার মতো, এবং এর গল্প ও চরিত্রের মধ্যে তারা নিজেদের খুঁজে পাচ্ছেন। ফলে নাটকের প্রতিটি পর্ব ইউটিউবে মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউ পেয়েছে। অবশেষে এই আলোচিত ধারাবাহিকটি শেষ হতে চলেছে।

নির্মাতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও অভিনয়শিল্পীদের প্রতিক্রিয়া

গতকাল শনিবার বিকেলে একটি আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে নির্মাতা মোস্তফা কামাল রাজ জানিয়েছেন যে ‘এটা আমাদেরই গল্প’ ধারাবাহিকটি শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অভিনেত্রী মনিরা আক্তার মিঠু বলেন, ‘সব শ্রেণির মানুষের কাছে “এটা আমাদেরই গল্প” তুমুল জনপ্রিয়। একজন সিএনজির ড্রাইভারও ঘাড় ঘুরিয়ে বলে, “ও, এটা আমাদেরই গল্পের মা আপনি!” আবার একদম এলিট ক্লাসের একজনও একই প্রশংসা করেন। এটা আমাদের সার্থকতা। এটা আমাদের পরিচালক মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের সার্থকতা। যদিও উনি প্রশংসা করলে বিব্রত হন।’

অভিনেত্রী দীপা খন্দকার নাটকের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলেন, ‘আমাদের সাত মাসের জার্নি শেষ হচ্ছে। সাতটা লট করেছি, এটাই লাস্ট। সাত মাস আগেও যখন আপনারা এসেছিলেন, আমি বলেছিলাম মানুষ ফ্যামিলির গল্প দেখতে চায়, এসব নাটক দেখতে মানুষ অপেক্ষা করে। এখন কতটুকু অপেক্ষা করে, সেটা আপনারা বলতে পারবেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে, বিশেষ করে আমার ক্যারিয়ারে গত ২০ বছর আমি দেখিনি কোনো পর্বের জন্য মানুষ এতটা অপেক্ষা করে, যা দেখলাম “এটা আমাদেরই গল্প” করে!’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিনয়শিল্পীদের আবেগ ও সাফল্যের গল্প

অভিনেতা ইন্তেখাব দিনার বলেন, ‘আমি অনেক দিন পর একটি চরিত্রের জনপ্রিয়তা উপভোগ করছি, সেটা “এটা আমাদেরই গল্প”র কারণে। নির্মাতা রাজকে ধন্যবাদ, আবার এমন গল্পের নাটক ফিরিয়ে আনার জন্য।’ এই নাটকে অভিনয় করেছেন খায়রুল বাসার, ইরফান সাজ্জাদ, সুনেরাহ্ বিনতে কামাল ও কেয়া পায়েল সহ আরও অনেকে।

অভিনেত্রী কেয়া পায়েল বলেন, ‘সব সময় চাইতাম অভিনেত্রী হিসেবে এমন কাজ করতে, যেটা আমাকে দীর্ঘদিন মানুষের মাঝে বাঁচিয়ে রাখবে। “এটা আমাদেরই গল্প” করার পর মনে হয়েছে, কাল থেকে যদি অভিনয় ছেড়ে দিই তবু আমার কোন আফসোস থাকবে না। কারণ, আমি এমন অসাধারণ একটি সিরিয়াল করতে পেরেছি। এই সিরিয়ালটি আমাকে সেই স্থানে পৌঁছে দিয়েছে।’

অভিনেত্রী সুনেরাহ্‌ বিনতে কামাল বলেন, ‘আমার চরিত্রটিও যে এত সাড়া পাবে, এটা আমি ভাবিনি। আমার জীবনে এটা অনেক বড় একটা অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে। একটা সুন্দর পরিবার পেয়েছি, সবার সাথে বন্ডিং, মজা মাস্তি- সাথে কাজটা ভালো করার তাগিদ, সব মিলিয়ে “এটা আমাদেরই গল্প: বেস্ট প্যাকেজ”–ই বলব।’

অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ বলেন, ‘আমাদের খারাপ লাগছে যে “এটা আমাদেরই গল্প” একদম শেষ পর্যায়ে। খুব শিগগির এই নাটক টেকনিক্যালি শুটিং অফ হয়ে যাবে। জানি না, এই সেট আর এই গল্প ফিরবে কি না! কিন্তু আপনাদের সবাইকে মিস করব এবং এই গল্পের দর্শকদের মিস করব।’

খায়রুল বাসার বলেন, ‘আমার জন্য রাজ ভাই এক বিশাল অভিজ্ঞতা এই প্রজেক্টে। এতগুলো মানুষ আমরা সাত মাস ছিলাম, একটা পরিবারের মতো সবাই ছিলাম। এই নাটকটি যখন আমি দর্শক হিসেবে দেখেছি, নানা জায়গায় ইমোশনাল হয়েছি। এই নাটকে আমার নাম সামির, অনেক মানুষ আমার প্রকৃত নাম জানেন না; কিন্তু সামির নামে চেনেন। আমার মনে হয়, মানুষ আমাকে সামির নামেই চিনুক!’

নাটকের প্রভাব ও ভবিষ্যৎ

‘এটা আমাদেরই গল্প’ নাটকটি শুধু মাত্র বিনোদন নয়, বরং দর্শকদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। এটি বাংলাদেশি ধারাবাহিক নাটকের পুনরুজ্জীবনের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছে। নাটকটি শেষ হলেও এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে আশা করা যায়, এবং ভবিষ্যতে আরও এমন পরিবারকেন্দ্রিক গল্পের নাটক নির্মাণে অনুপ্রেরণা জোগাবে।