চার বছরের প্রেমের পর বিয়ে, ১৫ দিনেই আত্মহত্যা যুবকের
বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা যুবকের

চার বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। নোটারি পাবলিক ও নিকাহ রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে বিয়েও সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের দুই সপ্তাহও পার হতে না হতেই সম্পর্কে ফাটল দেখা দেয়। একপর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দীর্ঘ একটি পোস্ট করে বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় নিজ ঘরে ওড়না দিয়ে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেন যুবক রাকিব হোসেন।

ঘটনার বিবরণ

গতকাল সোমবার সকালে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার পৌর সদরের পোস্ট অফিস রোডে নিজ বাসা থেকে রাকিবের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। উপজেলার বৈদ্যবাড়ী গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে রাকিব হোসেন (২৩)। একই উপজেলার জোরবাড়িয়া উত্তর পাড়া গ্রামের অনার্সপড়ুয়া এক মেয়ের (২১) সঙ্গে দীর্ঘ চার বছর গভীর প্রেম চলে। প্রেমের বিষয়টি মেনে নেয়নি মেয়ের পরিবার। পরিবারের অবাধ্য হয়ে পালিয়ে বিয়ে করেন দুজনে।

বিয়ের পরবর্তী ঘটনা

গত ১৯ এপ্রিল ময়মনসিংহ নোটারি পাবলিক ও নিকাহ রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে ৫ লাখ টাকা কাবিন মূলে বিয়ে করেন তারা। বিয়ের দিন ময়মনসিংহ শহরে মেয়ের পরিবার তাদের একত্রে দেখে ধরে নিয়ে যায় এক আত্মীয়র বাসায়। সেখানে ছেলেকে মারধর করা হয়। পরে পরিবারকে ডেকে নিয়ে শর্ত দেয় সরকারি চাকরি করতে পারলে মেয়েকে আনুষ্ঠানিকভাবে ছেলের হাতে তুলে দেবে। পরে ছেলেকে তার পরিবারের কাছে এবং মেয়েকে তারা রেখে দেয়। এরপর থেকে দুজনের মধ্যে দূরত্বের সৃষ্টি হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফেসবুক পোস্ট ও আত্মহত্যা

গত রবিবার রাতের কোনো এক সময় রাকিব হোসেন তার ব্যবহূত ‘রোবায়েত হাসান’ নামক ফেসবুক আইডিতে দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি লিখেছেন : ‘...এখন আমার বউ বলতেছে সরকারি চাকরি না হলে সে আমার সাথে থাকবে না, এখন আমার আত্মহত্যা করা ছাড়া কোন উপায় নেই। আমার এই অকালমৃত্যুর জন্য দায়ী থাকবে মেয়ে (তার স্ত্রী) ও তার ফ্যামিলি।...আমি আত্মহত্যা করি নাই, আমাকে খুন করা হয়েছে।’ তিনি আরো লেখেন : ‘আমি বাঁচতে চেয়েছিলাম, আমি সুন্দর সংসার করতে চেয়েছিলাম, আমি তাকে অনেক ভালোবাসতে চেয়েছিলাম। দুনিয়ার মানুষের কাছে আমার একটাই প্রশ্ন—এটাই কি আমার অপরাধ ছিল? আপনারা সবাই আমার খুনের সঠিক বিচারটা কইরেন...।’

পরিবারের প্রতিক্রিয়া

রাকিবের বড় ভাই সফির উদ্দিন বলেন, ‘আমার ভাইয়ের মৃত্যুর জন্য তার স্ত্রী ও স্ত্রীর পরিবার দায়ী।’ ফুলবাড়ীয়া থানার ওসি রাশেদুল হাসান বলেন, ‘আত্মহত্যার ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।’