সংবাদপত্রের পাতায় মানুষের কথা তুলে ধরা, সমাজের অসঙ্গতির বিরুদ্ধে কলম ধরা আর সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে নির্ভীক অবস্থান—এভাবেই দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ ধরে সাংবাদিকতার অঙ্গনে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান গড়ে তুলেছেন বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কৃতী সাংবাদিক মোঃ আব্দুল মান্নান। নিরলস পেশাদারিত্ব, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং সমাজসেবামূলক ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৫ মে ঐতিহ্যবাহী সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সংগঠন “শেরপুর সাহিত্য চক্র” তাকে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করেছে।
দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবন
দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি শুধু সংবাদকর্মী হিসেবেই নয়, একজন সমাজসচেতন মানবিক মানুষ হিসেবেও স্থানীয় মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছেন। দেশের প্রখ্যাত জাতীয় দৈনিক ইত্তেফাক-এর শেরপুর উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে তিনি প্রায় দুই যুগ ধরে নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পাশাপাশি ইংরেজি জাতীয় দৈনিক দি নিউ নেশন-এর সাংবাদিক হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। জাতীয় পত্রিকায় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্থানীয় সাংবাদিকতা ও সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশেও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
স্থানীয় পত্রিকায় অবদান
শেরপুর থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক “বিজয় বাংলা” পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। তার সম্পাদনায় পত্রিকাটি স্থানীয় জনজীবনের নানা চিত্র, সমস্যা-সম্ভাবনা ও সাহিত্যচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
ব্যক্তিগত জীবন ও শিক্ষা
১৯৮৪ সালে বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার জয়লা জুয়ান গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মোঃ আব্দুল মান্নান। তার পিতা আলহাজ্ব মোকছেদ আলী ভূঁইয়া। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান আব্দুল মান্নান ছোটবেলা থেকেই পারিবারিক মূল্যবোধ, নৈতিক শিক্ষা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠেন। ছাত্রজীবন থেকেই সাংবাদিকতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত আছেন।
প্রেসক্লাবে ভূমিকা
তিনি শেরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘ দিন সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ পথচলায় সাংবাদিকতার নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেও তিনি কখনো নীতি ও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। সত্য প্রকাশের সাহস, মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং পেশার প্রতি গভীর ভালোবাসাই তাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে। তার সহকর্মীরা মনে করেন, আব্দুল মান্নান শুধু একজন সংবাদকর্মী নন, তিনি শেরপুরের গণমানুষের কণ্ঠস্বর।
সম্মাননার কারণ ও প্রতিক্রিয়া
শেরপুর সাহিত্য চক্রের সভাপতি সুলতান মাহমুদ রনি জানান, সাংবাদিকতায় দীর্ঘদিনের অবদান, সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি এবং সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের জন্য তাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, “মোঃ আব্দুল মান্নানের মতো নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিক সমাজের জন্য অনুকরণীয়। তার কলম সবসময় মানুষের পক্ষে কথা বলে।” সম্মাননা প্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায়, আব্দুল মান্নান বলেন, “সাংবাদিকতা আমার কাছে শুধু পেশা নয়, এটি মানুষের জন্য কাজ করার একটি দায়িত্ব। এই সম্মাননা আমাকে আরও অনুপ্রাণিত করবে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে।”
স্থানীয় সাংবাদিক, সাহিত্যিক, শিক্ষক, সংস্কৃতিকর্মী ও সুধী মহল মনে করেন, দীর্ঘ দুই যুগ ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা করে যাওয়া মোঃ আব্দুল মান্নানের এই সম্মাননা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি শেরপুরের সাংবাদিক সমাজেরও গর্ব ও প্রেরণার।



