নিজের অন্ধকার অধ্যায়ের কথা জানালেন জাহ্নবী কাপুর
নিজের অন্ধকার অধ্যায়ের কথা জানালেন জাহ্নবী কাপুর

বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর ব্যক্তিগত জীবনে এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেছেন। অথচ পর্দায় সবসময়ই তার উপস্থিতি থাকে গ্ল্যামারাস। তাকে দেখে বোঝার উপায় নেই যে একটা সময় তিনিও মানসিক অবসাদ এবং মদপানের মতো সমস্যার মধ্য দিয়ে গেছেন। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে নিজের জীবনের সেই অন্ধকার অধ্যায়ের কথা শেয়ার করলেন অভিনেত্রী।

লকডাউনে মদপানের শুরু

কোভিড লকডাউনের সময় জীবনের এক ট্রমাটিক পরিস্থিতির শিকার হয়ে তিনি ঘনঘন মদপান শুরু করেছিলেন। জাহ্নবী বলেন, তিনি সাধারণত খুব একটা মদপান করেন না। কিন্তু লকডাউনের সময় এক বছর এমন একটি পর্যায় এসেছিল, যখন তিনি প্রায় প্রতিদিনই মদপান করতেন। তিনি বলেন, "আমি বলব না যে, আমি অ্যালকোহলে আসক্ত ছিলাম। তবে আমি নেশা করার প্রয়োজন অনুভব করতাম। আমার মনে হতো, আমার মাতাল হওয়া দরকার।" জীবনের একটি ব্যক্তিগত বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতেই তিনি মদের গ্লাসে সান্ত্বনা খুঁজতেন।

শরীরের পরিবর্তন ও উপলব্ধি

তবে খুব দ্রুতই নিজের ভুল বুঝতে পারেন অভিনেত্রী। মদপানের ফলে তার শরীরে নানা পরিবর্তন আসে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর যে অস্বস্তি হতো, তা তিনি ঘৃণা করতে শুরু করেন। এমনকি তার শরীরের গন্ধও বদলে গিয়েছিল বলে জানান জাহ্নবী কাপুর। অভিনেত্রী বলেন, "আমার শরীরের গন্ধে আমি এমন একজনের আভাস পেতাম, যাকে আমি ভালোবাসতাম এবং যে নিজেও মদপানের নেশায় আসক্ত ছিল। সেই গন্ধটাই আমার কাছে একটা সিগন্যাল ছিল যে, দিনটা ভালো যাবে না।"

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিজেকে বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত

জাহ্নবী কাপুর বলেন, সেই চরম বাস্তবতা থেকেই নিজেকে বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এরপর টানা দেড় বছর তিনি মদের গ্লাস ছুঁয়েও দেখেননি। বর্তমানে তিনি মদপানের নেশা থেকে মুক্তির বিষয়ে সচেতনতা প্রচার করছেন। একটি মানসিক স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। নেশার কবলে না পড়ে নিজের শরীরের কথা শোনা উচিত বলে জানান অভিনেত্রী।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভক্তদের ইতিবাচক সাড়া

জাহ্নবীর অকপট স্বীকারোক্তি ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে তার ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে। গ্ল্যামার জগতের বাইরেও যে তারকাদের লড়তে হয়, জাহ্নবী কাপুরের জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনাই তারই প্রমাণ।