সিসা লাউঞ্জ বন্ধে নির্দেশনা অমান্য: ডিএমপি কমিশনারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন
সিসা লাউঞ্জ বন্ধে নির্দেশ অমান্য: ডিএমপি কমিশনারের বিরুদ্ধে আবেদন

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে পরিচালিত সিসা লাউঞ্জ বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশনা চেয়ে আদালত অবমাননার আবেদন করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৫ মে) আবেদনকারী আইনজীবী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, গত ১৪ মে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এস এম জুলফিকার আলী জুনু হাইকোর্টে আবেদনটি দাখিল করেন।

জনস্বার্থে রিট ও আদালতের রুল

এস এম জুলফিকার আলী জুনু জানান, জনস্বার্থে দায়ের করা রিটে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা সিসা লাউঞ্জে তামাকজাত দ্রব্য ও মাদকসদৃশ উপাদান সেবনের অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চাওয়া হয়। রিটে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন অভিজাত এলাকা ও বাণিজ্যিক জোনে পরিচালিত এসব সিসা লাউঞ্জ তরুণ সমাজ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেশাজাতীয় সংস্কৃতি বিস্তারে ভূমিকা রাখছে এবং প্রকাশ্যে আইন লঙ্ঘন করেই অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যবসা পরিচালনা করছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে গত ৩ মার্চ হাইকোর্ট রুল জারি করেন। একইসঙ্গে আবেদনকারীর গত ৭ জানুয়ারির আবেদন ৬০ দিনের মধ্যে আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি করতে ডিএমপি কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

নির্দেশনা অমান্য ও কার্যকর ব্যবস্থার অভাব

কিন্তু, আদালতের নির্দেশনার নির্ধারিত সময় অতিক্রম হলেও কার্যকর কোনও অভিযান, দৃশ্যমান প্রশাসনিক পদক্ষেপ কিংবা আদালতে কোনও সন্তোষজনক অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করা হয়নি বলে আদালত অবমাননার আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীর বনানী, গুলশান, ধানমন্ডি, উত্তরা ও কক্সবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় এখনও প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে সিসা লাউঞ্জ পরিচালিত হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে তামাকজাত দ্রব্যের পাশাপাশি মাদকসদৃশ উপাদান ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। অথচ, উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

সাংবিধানিক দায়িত্ব ও আদালতের মর্যাদা

আদালত অবমাননার আবেদনে বলা হয়, সংবিধানের ১১১ ও ১১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের আদেশ ও নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা রাষ্ট্রের সকল নির্বাহী কর্তৃপক্ষের সাংবিধানিক দায়িত্ব। কিন্তু, আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ও নিষ্ক্রিয়তা বিচার বিভাগের মর্যাদা ও আইনের শাসনের পরিপন্থি।

আবেদনে ডিএমপি কমিশনারকে সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আদালতের নির্দেশ অমান্যের দায়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার কার্যক্রম নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

আইনজীবীর বক্তব্য

আবেদনকারী অ্যাডভোকেট বলেন, “হাইকোর্ট দেশের জনস্বাস্থ্য, তরুণ সমাজ এবং আইনের শাসনের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে যদি অবৈধ সিসা লাউঞ্জ চলতেই থাকে, তাহলে তা আদালতের আদেশের প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞা হিসেবে বিবেচিত হবে। আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের প্রতিটি সংস্থার দায়িত্ব।”

তিনি আরও বলেন, “সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে। কিন্তু বাস্তবে যদি প্রকাশ্যে সিসা লাউঞ্জ পরিচালিত হয় এবং প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।”