সঞ্জয় খানের মেয়ে ফারাহ বললেন, জিনাত আমানকে মারধরের অভিযোগ ভিত্তিহীন
সঞ্জয় খানের মেয়ে ফারাহ বললেন, জিনাত আমানকে মারধরের অভিযোগ ভিত্তিহীন

বলিউডের আলোচিত প্রেমের গল্পগুলোর একটি ছিল সঞ্জয় খান ও জিনাত আমানের সম্পর্ক। তাঁদের প্রেম, গোপন বিয়ে এবং পরবর্তী বিচ্ছেদ যেমন আলোচনায় ছিল, তেমনি দীর্ঘদিন ধরে ঘুরে বেড়িয়েছে জিনাত আমানকে নির্যাতনের অভিযোগ। বিশেষ করে জিনাত আমানকে সঞ্জয় খান মারধর করেছিলেন এবং সেই ঘটনায় তাঁর চোখে গুরুতর আঘাত লেগেছিল—এমন দাবি বছরের পর বছর ধরে বলিউডের বহুল আলোচিত বিতর্কের অংশ।

প্রথমবার মুখ খুললেন সঞ্জয় খানের মেয়ে

এবার প্রথমবারের মতো সেই বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন সঞ্জয় খানের মেয়ে, গয়না ডিজাইনার ফারাহ খান আলী। তিনি স্বীকার করেছেন, জিনাত আমানের সঙ্গে তাঁর বাবার সম্পর্ক তাঁদের পরিবারে বড় সংকট তৈরি করেছিল। তবে সঞ্জয় খানের বিরুদ্ধে ওঠা মারধরের অভিযোগকে তিনি ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছেন। ‘এসব পুরোপুরি বাজে কথা’ সাংবাদিক ভিকি লালওয়ানিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফারাহ বলেন, ঘটনার সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ৯–১০ বছর। তাই সেই সময়ের খুব বেশি স্মৃতি তাঁর নেই। তবু তিনি দৃঢ়ভাবে দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে গল্পটি বারবার ছড়িয়ে দেওয়া হয়, সেটি সত্য নয়। ফারাহ বলেন, ‘আমি তখন খুব ছোট ছিলাম। কিন্তু একটা বিষয় পরিষ্কার করে বলতে চাই। সোশ্যাল মিডিয়ায় বারবার যে গল্পটা ছড়ানো হয়—আমার বাবা নাকি জিনাত আমানকে মেরেছিলেন, আর সেই কারণে তাঁর চোখে আঘাত লেগেছিল—এসব পুরোপুরি বাজে কথা।’

বাবা কখনো নারীর গায়ে হাত তোলেননি

ফারাহ আরও বলেন, ‘আমার বাবা কখনো আমার মাকে বা তাঁর কোনো মেয়েকে হাত তোলেননি। তিনি এমন মানুষ নন, যিনি কোনো নারীর গায়ে হাত তুলবেন।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চোখের সমস্যা ছিল বংশগত

ফারাহ আরও দাবি করেন, তাঁর মা জারিন কাতরাক খান তাঁকে জানিয়েছিলেন, জিনাত আমানের চোখের সমস্যার সঙ্গে মারধরের কোনো সম্পর্ক ছিল না। ফারাহর ভাষায়, ‘আমার মা বলেছিলেন, জিনাত আমানের মায়েরও চোখের একটি সমস্যা ছিল। তাঁর একটি চোখও তুলনামূলক ছোট ছিল। অর্থাৎ এটি ছিল বংশগত বিষয়। জিনাত আমানের ক্ষেত্রেও সেই জিনগত কারণেই এমন হয়েছিল, সংবাদমাধ্যমে যেভাবে লেখা হয়েছিল, তা নয়।’ ফারাহ বলেন, ‘আমার মা অত্যন্ত সৎ মানুষ। তিনি আমাকে স্পষ্ট করে বলেছেন, আমার বাবা কখনোই জিনাত আমানের গায়ে হাত তোলেননি। তাই বাবার মারধরের গল্প সম্পূর্ণ মিথ্যা। আজ ক্যামেরার সামনে বসে এটা বলতে পেরে আমি খুশি, কারণ আমি সত্যিটা পরিষ্কার করতে চাই।’

প্রেমের সম্পর্ক তাঁদের সংসারে ঝড় তুলেছিল

তবে বাবার সম্পর্ক যে তাঁদের পরিবারে বড় প্রভাব ফেলেছিল, তা অস্বীকার করেননি ফারাহ। তিনি বলেন, জিনাত আমানের সঙ্গে সঞ্জয় খানের সম্পর্ক তাঁর মা–বাবার সংসার প্রায় ভেঙে দিয়েছিল। ফারাহর ভাষ্য, ছোট ছেলে জায়েদ খানের জন্মের কিছুদিন পর তাঁর মা বাড়ি ছেড়ে তিন মাসের জন্য চলে যান। সে সময় পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে শিশুপুত্র জায়েদকে দেখাশোনার দায়িত্ব ছিল সঞ্জয় খানের ওপর। তিন মাস পর যখন জারিন ফিরে আসেন, তখন সঞ্জয় খান তাঁর স্ত্রীর এক ভিন্ন রূপ দেখেছিলেন—একজন আত্মবিশ্বাসী, স্বাধীনচেতা নারী, যিনি চাইলে নিজের জীবন নিজেই গড়ে নিতে পারেন। ফারাহর বিশ্বাস, সেটিই তাঁদের সম্পর্কে বড় পরিবর্তনের সূচনা করেছিল।

মা কখনো কাউকে দোষ দেননি

ফারাহ বলেন, তাঁর মা কখনো প্রকাশ্যে কাউকে দোষারোপ করেননি কিংবা তিক্ততা ছড়াননি। ‘মা সব সময় অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে পুরো বিষয়টি সামলেছেন। অন্যের বিরুদ্ধে খারাপ কথা বলা তাঁর স্বভাবেই ছিল না,’ বলেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে আরেকটি গুঞ্জন ছিল জারিন নাকি একসময় জিনাত আমানের মুখোমুখি হয়ে তাঁকে মারধর করেছিলেন। ফারাহ এটিও সরাসরি অস্বীকার করেছেন। ফারাহ বলেন, ‘আপনার কি সত্যিই মনে হয়, আমার মা অন্য কোনো নারীর সঙ্গে মারামারি করতে পারেন? একেবারেই না। তিনি অত্যন্ত মার্জিত ও রুচিশীল মানুষ। তাই এই খবরও সম্পূর্ণ মিথ্যা।’ ফারাহ জানান, তাঁর মা একবার সন্তানদের বলেছিলেন, ‘তোমাদের বাবা তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল। তাই আমি শুধু জিনাতকে দোষ দিই না। দুজনের মধ্যেই আকর্ষণ ছিল। হয়তো তখন তাঁদের দাম্পত্যে কোনো সমস্যা চলছিল। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, বাবা কখনোই জিনাত আমানকে মারেননি।’

নারীদের সম্মান করতেন বাবা

ফারাহ তাঁর বাবার ব্যক্তিত্ব নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, একবার একটি রেস্তোরাঁয় এক অভিনেতা নারী ও শিশুদের সামনে অশালীন ভাষায় কথা বলছিলেন। তখন সঞ্জয় খান তাঁর সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। ‘বাবা সব সময় বিশ্বাস করতেন, নারীদের সম্মান করতে হবে, তাঁদের রক্ষা করতে হবে। তিনি ছিলেন পুরোনো ধ্যানধারণার মানুষ। তাই তিনি কোনো নারীকে মারতে পারেন—এমন অভিযোগ আমি বিশ্বাসই করি না,’ বলেন ফারাহ।

বিয়ে হয়েছিল, পরে বিচ্ছেদও

ফারাহ নিশ্চিত করেছেন, সঞ্জয় খান ও জিনাত আমান সত্যিই বিয়ে করেছিলেন। তাঁর কথায়, ‘হ্যাঁ, তাঁদের বিয়ে হয়েছিল। পরে মুসলিম রীতি অনুযায়ী তাঁদের বিচ্ছেদও হয়।’ তবে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার বিস্তারিত বিষয়ে তিনি কিছু বলতে চাননি।

মা ক্ষমা করেছিলেন, তাই আর প্রশ্ন করিনি

ফারাহ জানান, তিনি কখনো বাবাকে ওই সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করেননি। কারণ, তাঁর মা অনেক আগেই বিষয়টি ক্ষমা করে এগিয়ে গিয়েছিলেন। নিজের দাম্পত্যের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘ধরুন, আমার স্বামী আকির আলী যদি কোনো সম্পর্কে জড়িয়ে পড়তেন, আমি কখনোই চাইতাম না আমাদের সন্তানরা তাঁকে সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করুক। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক আর সন্তানের সঙ্গে বাবার সম্পর্ক—দুটি এক জিনিস নয়।’

জিনাত আমানের দুই বিয়ে

জিনাত আমান ১৯৭৮ সালে সঞ্জয় খানকে বিয়ে করেছিলেন। তবে সেই সংসার টেকেনি; পরের বছরই তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর ১৯৮৫ সালে তিনি অভিনেতা-পরিচালক মাজহার খানকে বিয়ে করেন। তাঁদের দুই ছেলে—আজান খান ও জাহান খান। ১৯৯৮ সালে কিডনি বিকলের কারণে মারা যান মাজহার খান।

ফারাহ খান আলীর এই সাক্ষাৎকারের পর বলিউডের বহু পুরোনো এবং বহুল আলোচিত এই বিতর্ক আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেই জানিয়েছেন—বাবার সম্পর্ক নিয়ে সত্য লুকানোর চেষ্টা করছেন না, কিন্তু জিনাত আমানকে মারধরের অভিযোগ তাঁর মতে সম্পূর্ণ মিথ্যা।