প্যারিসের বর্তমান মেয়র ইমানুয়েল গ্রেগোয়ার বাংলাদেশি আলোকচিত্রী ফরিদ আহাম্মদ রনির প্রকাশিত চিত্রগ্রন্থ ‘প্যারিসের ছবি’ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে এর শিল্পমান ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের প্রশংসা করেছেন। এই স্বীকৃতি প্যারিসকে ঘিরে দীর্ঘদিনের আলোকচিত্রচর্চার ফল হিসেবে এসেছে।
মেয়রের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও গ্রন্থ গ্রহণ
৩০ জুন স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টায় প্যারিসের সিটি হলে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে মেয়রের সঙ্গে রনির সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। এ সময় প্যারিসকে নিয়ে তার আলোকচিত্র গ্রন্থ, এর নান্দনিক উপস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক বিনিময়ে এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়। মেয়র গ্রন্থটির শিল্পমান ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমাদর
এর আগে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর কাছেও তিনি তার গ্রন্থ পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ পান। পরে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে প্রাপ্ত আনুষ্ঠানিক প্রশংসাপত্র তার উদ্যোগের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাকে আরও সুসংহত করে। প্যারিসের সাবেক মেয়র আন্নে ইদালগোর কাছেও নিজের গ্রন্থ উপহার দিয়েছিলেন রনি, তখনও তিনি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া লাভ করেন।
তিন ভাষায় প্রকাশিত গ্রন্থ
বাংলা, ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায় প্রকাশিত ‘প্যারিসের ছবি’ গ্রন্থে প্যারিসের ঐতিহাসিক স্থাপত্য, শিল্পঐতিহ্য, নগরজীবনের বৈচিত্র্য এবং সাংস্কৃতিক আবহ শিল্পসম্মতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গ্রন্থটি সমাদৃত হয়েছে।
চেঞ্জ নাউ সামিটে উপস্থাপন
ফ্রান্সের ঐতিহাসিক গ্রা পালে প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত চেঞ্জ নাউ সামিটে তিনি তার গ্রন্থটি মোনাকোর যুবরাজ প্রিন্স আলবার্ট দ্বিতীয়, ফ্রান্সের সাবেক প্রধানমন্ত্রী লরা ফাবিউস এবং জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল মেলিসা ফ্লেমিংয়ের হাতে তুলে দেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব গ্রন্থটির শিল্পগুণ, সাংস্কৃতিক মূল্য এবং আন্তর্জাতিক সংলাপে এর গুরুত্বের প্রশংসা করেন।
সাংস্কৃতিক সম্পর্কের সেতু
সংশ্লিষ্টদের মতে, ‘প্যারিসের ছবি’ শুধু একটি আলোকচিত্র গ্রন্থ নয়; বরং দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও সমৃদ্ধ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। প্যারিসের মেয়রের এই স্বীকৃতিকে তার দীর্ঘ সৃজনশীল যাত্রার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।



