কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সঙ্গীর প্রতি আসক্তি এখন একটি গুরুতর মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই চ্যাটবট ও ভার্চুয়াল সঙ্গীর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং মানসিক সুস্থতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এনডিটিভি লাইফস্টাইলের এক প্রতিবেদনে এআই আসক্তির সাতটি লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায় তুলে ধরা হয়েছে।
এআই আসক্তি কী?
মানসিক, সামাজিক বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এআই-এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাকেই এআই আসক্তি বলা হয়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও স্ক্রিন আসক্তির মতোই একটি আচরণগত সমস্যা। এখনো কোনো মনস্তাত্ত্বিক সংস্থা এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আসক্তি হিসেবে স্বীকৃতি না দিলেও, বাস্তব জীবনে এর প্রভাব স্পষ্ট।
কেন মানুষ এআই সঙ্গীর প্রতি আসক্ত হয়?
এআই সঙ্গীদের এমনভাবে প্রোগ্রাম করা হয় যাতে তারা তাৎক্ষণিক উত্তর দিতে পারে এবং কোনো বিচার বা সমালোচনা না করে। ফলে মানুষ বিনা দ্বিধায় কথা বলতে পারে এবং মানসিক ঘর্ষণ এড়িয়ে চলে। সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও একাকিত্বও এআই ব্যবহারের বড় কারণ।
এআই আসক্তির ৭টি লক্ষণ
১. সকালবেলা উঠেই এআই চ্যাট চেক করা: ঘুম থেকে উঠে প্রথম কাজ যদি এআই চ্যাটবট দেখা হয়, তবে এটি আসক্তির লক্ষণ। এটি মস্তিষ্ককে জানান দেয় যে কাজ শুরু করার জন্য এআই প্রয়োজন।
২. বাস্তব কথোপকথনের চেয়ে এআই-এর সঙ্গে কথা বলা পছন্দ করা: রক্তমাংসের মানুষের চেয়ে এআই-এর সঙ্গে সময় কাটানো বেশি স্বাচ্ছন্দ্যকর মনে হলে সতর্ক হোন।
৩. এআই ব্যবহার করতে না পারলে উদ্বেগ অনুভব করা: এআই সঙ্গীর সঙ্গে কথা বলতে না পারলে উদ্বেগ বা অস্থিরতা কাজ করলে তা আসক্তির ইঙ্গিত দেয়।
৪. মানসিক সমর্থনের জন্য প্রতিনিয়ত এআই ব্যবহার করা: পেশাদার মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা মনোবিজ্ঞানীর পরিবর্তে এআই-এর ওপর নির্ভর করা ক্ষতিকর।
৫. স্ক্রিন টাইম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া: ফোনের সেটিংসে স্ক্রিন টাইম চেক করে দেখুন আগের চেয়ে বেড়েছে কিনা। অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব এড়াতে সময়সীমা নির্ধারণ করুন।
৬. এআই ছাড়া সিদ্ধান্ত নিতে হিমশিম খাওয়া: ছোটখাটো সিদ্ধান্ত—যেমন কোথায় খাবেন বা কী করবেন—এআই-এর ওপর নির্ভর করলে তা একটি বড় সমস্যা।
৭. এআই-এর সঙ্গে চ্যাট করার সময় সময়ের জ্ঞান হারিয়ে ফেলা: ঘণ্টার পর ঘণ্টা চ্যাট করে সময়ের হিসাব না রাখা আসক্তির লক্ষণ।
এআই-এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতায় মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি
- বাস্তব জীবনে সামাজিক যোগাযোগ কমে যাওয়া
- আবেগগতভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া
- উদ্বেগ বা দুশ্চিন্তা বেড়ে যাওয়া
- সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পরনির্ভরশীলতা
এআই সাহায্য করতে পারে ঠিকই, কিন্তু এর অতিরিক্ত ব্যবহারে মানুষের নিজস্ব সৃজনশীলতা বাধাগ্রস্ত হয়।
ঝুঁকিতে যারা
তরুণ সমাজ, রিমোট ওয়ার্কার, একাকিত্ব বা বিষণ্ণতায় ভোগা ব্যক্তি এবং অতিরিক্ত প্রযুক্তি ব্যবহারকারীরা এআই আসক্তির সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
কীভাবে স্বাস্থ্যকর উপায়ে এআই ব্যবহার করবেন
- স্বাস্থ্যকর সীমানা বজায় রাখতে সময়সীমা নির্ধারণ করুন।
- আবেগগত নির্ভরশীলতা এড়িয়ে চলুন; মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মানুষের সমর্থন প্রয়োজন।
- বাস্তব মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথন ও ভারসাম্য বজায় রাখুন।
- এআইকে কেবল একটি ‘টুল’ হিসেবে ব্যবহার করুন, ‘সঙ্গী’ হিসেবে নয়।
কখন উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত
যখন দৈনন্দিন রুটিনে মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরতা, বাস্তব জগতের সামাজিক যোগাযোগ এড়িয়ে চলা এবং আবেগগত নির্ভরতা দেখা দেয়, তখন সতর্ক হওয়া জরুরি। এআই একটি উপকারী প্রযুক্তি, তবে ভারসাম্য বজায় রাখাটাই মূল চাবিকাঠি।



