শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আয়োজন কান চলচ্চিত্র উৎসবের ৭৯তম আসর। সারা বছর ধরে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের পাশাপাশি ফ্যাশন উৎসাহীরাও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন এই উৎসবের জন্য। বার্ষিক এই উৎসবকে কেন্দ্র করে বিশ্বের নামীদামি চলচ্চিত্র তারকা, প্রথিতযশা ডিজাইনার ও অ্যাস্থেটিশিয়ানদের উৎসাহ-উদ্দীপনার সীমা থাকে না। কানের লালগালিচা মানেই অন্য রকম ও বিশেষ কিছু। চলুন একনজরে দেখে নেওয়া যাক বিগত বছরগুলোর স্মরণীয় কিছু লুক।
মনিকা বেলুচ্চি
ন্যুড টোনের বাদামি ফ্লোরাল প্রিন্টের বডিকন ড্রেসে ইতালিয়ান ডিভা মনিকা বেলুচ্চি। গলায় হিরের নেকলেস। সময়টা ১৯৯৭ সাল।
প্রিন্সেস ডায়ানা
কান চলচ্চিত্র উৎসবের লালগালিচায় হাস্যোজ্জ্বল প্রিন্সেস ডায়ানা। ১৯৮৭ সালে। তাঁর পরনে পাউডার ব্লু অফ দ্য শোল্ডার ইভনিং গাউন। সঙ্গে স্টোল। শিফনের সুন্দর গাউনটি ডিজাইন করেন ডায়ানার প্রিয় ডিজাইনার ক্যাথরিন ওয়াকার। ফ্যাশন সমালোচকদের মতে, এটি এই উৎসবের অন্যতম সেরা ফ্যাশন মুহূর্ত।
ম্যাডোনা
১৯৯১ সালের কান চলচ্চিত্র উৎসবে কুইন অফ পপ খ্যাত ম্যাডোনা। তিনি সে সময় পরেছিলেন ফরাসি ফ্যাশন ডিজাইনার জ্যঁ পল গতিয়েরের সাদা কোন ব্রা, হাই ওয়েস্টেড ব্রিফ ও গোলাপি কেপ।
সেলেনা গোমেজ
২০২৪ সালে কানে লালগালিচায় একদম ওল্ড হলিউড গ্ল্যামার নিয়ে এসেছিলেন সেলেনা গোমেজ। তিনি পরেছিলেন সাদা-কালো অফ দ্য শোল্ডার গাউন। বডি হাগিং ভেলভেট গাউনের নেকলাইনের সাদা ক্রিসক্রস ডিটেইলিং। এই নান্দনিক গাউন এসেছে ফরাসি ফ্যাশন ব্র্যান্ড সাঁ লরাঁ থেকে।
দীপিকা পাড়ুকোন
২০২২ সালের কান চলচ্চিত্র উৎসবে জুরিবোর্ডের সদস্য ছিলেন ভারতীয় অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন। এই আয়োজনের একদম শেষ দিনে তিনি পরেছিলেন ভারতীয় ডিজাইনার যুগল আবু জানি ও সন্দ্বীপ খোসলার তৈরি অফ হোয়াইট রাফল শাড়ি। এর সঙ্গে ছিল মুক্তা, ক্রিস্টাল ও রুপালি সিকোয়েন্সের মিশ্রণে তৈরি অত্যন্ত মানানসই স্ট্র্যাপলেস ব্লাউজ। তবে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে তাঁর শরীরের ঊর্ধ্বাংশজুড়ে হাতে বোনা মুক্তার বর্ণাঢ্য বডি জুয়েলারি। এ ছাড়া তিনি পরেছিলেন বদ্রিচাঁদ ঘনশ্যাম দাসের কানের দুল।
অ্যাঞ্জেলিনা জোলি
অনেক ভক্তের কাছে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি কানের রানি। লালগালিচায় এলে সেখানকার লাইমলাইট খুব সহজে তাঁর দখলে চলে যায়। জোলিকে অনেকবারই গ্ল্যামারাস লুকে দেখা গেছে।
বেলা হাদিদ
মার্কিন সুপারমডেল বেলা হাদিদ ২০২২ সালে রেড কার্পেট মাতিয়েছেন ভিনটেজ ভারসাচি গাউনে। স্ট্র্যাপলেস গাউনটির বিশেষত্ব হচ্ছে, এর মারমেইড শিলুয়েটের সঙ্গে কোমরঘেরা ড্রেপ আর পেছনের নাটকীয় বো। কালো রঙের অনন্যসাধারণ পোশাকটি ১৯৮৭ সালে সামার/স্প্রিং কালেকশনের জন্য ডিজাইন করেছিলেন স্বয়ং জিয়ান্নি ভারসাচে।
ন্যান্সি ত্যাগী
২০২৪ সালের কান চলচ্চিত্র উৎসবটি ছিল ন্যান্সি ত্যাগীর জন্য খুব স্পেশাল। ভারতের এই ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্সার নিজেই নিজের চোখ জুড়ানো সুন্দর গোলাপি গাউনটি তৈরি করেছিলেন রেড কার্পেটে পরার জন্য। ব্লাশ পিংক, বিশাল ঘেরের এই গাউনের ওজন ২০ কেজি। বহু রাফল আর প্লিটের সমন্বয়ে এই শিয়ার জর্জেটের অফ দ্য শোল্ডার গাউনটি বানাতে সময় লেগেছে ৩০ দিনেরও বেশি।
নাওমি ক্যাম্পবেল
কিংবদন্তি সুপারমডেল নাওমি ক্যাম্পবেল নিয়মিত কান চলচ্চিত্র উৎসবে আমন্ত্রণ পান। ২০২২ সালে তাঁকে দেখা গিয়েছিল ভ্যালেন্টিনোর ড্রামাটিক কাটআউট গাউন পরে।
ফ্যান বিংবিং
২০২৩ সালের কান চলচ্চিত্র উৎসবে বিখ্যাত চায়নিজ অভিনেত্রী ফ্যান বিংবিং অনেকগুলো ফ্যাশনেবল লুকে হাজির হয়েছিলেন। কিন্তু এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে এই লুক। স্ট্র্যাপলেস বল গাউনের পুরোটাতে ছিল বাঘ ও বাঁশবনের গ্রাফিক প্রিন্ট। এই অনন্যসাধারণ গাউন বিংবিংয়ের জন্য কাস্টমাইজ করে বানিয়েছেন চাইনিজ ডিজাইনার ক্রিস্টোফার বু।
লুপিতা নিয়োঙ্গো
গুচির প্যাস্টেল সবুজ গাউনে হলিউডের মেধাবী অভিনেত্রী লুপিতা নিয়োঙ্গো।



