অভিনয়কে ঘিরেই শুরু হয়েছিল তাঁর পথচলা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই স্বপ্নের ভেতরেই তৈরি হয়েছে বাস্তবতার চাপ, অপূর্ণতা আর এক ধরনের নীরব আক্ষেপ—এমনই অকপট মন্তব্য করেছেন অঞ্জন দত্ত।
অভিনয় জীবনের শুরু ও স্বপ্ন
সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, অভিনয় জীবন শুরু করেছিলেন গভীর আকাঙ্ক্ষা নিয়ে। গুরু হিসেবে পেয়েছিলেন বাদল সরকারকে। স্বপ্ন ছিল বড় পর্দায় নিজের জায়গা তৈরি করার। এমনকি একসময় বিশ্বাসও করেছিলেন—তিনি হয়তো সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিনেতা হয়ে উঠবেন।
বাস্তবতার চাপে পথ পরিবর্তন
কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। তিনি নিজেই স্বীকার করেন, তখনকার বাংলা বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের ধারা তাঁর সঙ্গে মানানসই ছিল না। ফলে ধীরে ধীরে অভিনয়ের পথ বদলে পরিচালনার দিকে ঝুঁকতে শুরু করেন তিনি।
অঞ্জন বলেন, “অভিনেতা হতে এসেছিলাম। পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে বাদল সরকারের কাছে অভিনয় শিখেছিলাম। ভেবেছিলাম, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের পরেই আমার নাম হবে। কিন্তু ১৯৮০-এর শেষ দিকে এসে বুঝলাম, বাণিজ্যিক ঘরানার বাংলা ছবি আমার জন্য নয়।”
তিনি আরও বলেন, “তখন যে সব ছবি তৈরি হতো, সেগুলোর সঙ্গে নিজেকে মেলাতে পারতাম না। দেখতেও যেতাম না। ‘বেদের মেয়ে জ্যোৎস্না’, ‘বাবা কেন চাকর’—এই ধরনের ছবি আমি দেখব কেন? বুঝেছিলাম, আমার দ্বারা হবে না। তারপরই আমি পরিচালনায় আসি।”
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের কথা
অভিনয়জীবনে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে সামনে রেখে এগোলেও তিনি স্মরণ করেন কিংবদন্তি এই অভিনেতার একটি কথা। নিজের অভিনয় জীবনে আইকনিক অবস্থানে যেতে না পারার প্রসঙ্গে তিনি তুলে ধরেন সেই অভিজ্ঞতা।
“আমি ভালো অভিনেতা কী করে হব? আমি যখন বলতাম, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের পরেই আমার নাম হবে, তখন অনেকে হাসত। আমাকে একবার সৌমিত্রদা বলেছিলেন, ‘অঞ্জন, তুই বোঝার চেষ্টা কর। আমি যখন অভিনয় করতে এসেছি, তখন কত বড় বড় পরিচালক ছিলেন—তপন সিংহ, অজয় কর, অসিত সেন, মৃণাল সেন। তুই কাকে পেয়েছিস? গোটা তিনেক ভালো পরিচালককে। কী করে করবি? তা হলে তোকে লিপস্টিক মেখে দৌড়াদৌড়ি করতে হতো। ভালো অভিনেতা হয়ে কী করবি?’—এই কথাটা আজও কানে বাজে।”
অভিনয়কে অস্বীকার নয়
তবে অভিনয় নিয়ে আক্ষেপ থাকলেও তিনি একে কখনো অস্বীকার করেননি। বরং নিজের শিল্পজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেই দেখেন। দীর্ঘ চার দশকের ক্যারিয়ারে অভিনয়, গান এবং পরিচালনা—সব মিলিয়ে তিনি নিজেকে এক বহুমাত্রিক শিল্পী হিসেবে গড়ে তুলেছেন।
সম্প্রতি কলকাতায় মুক্তি পেয়েছে সমর্পন সেনগুপ্ত পরিচালিত চলচ্চিত্র প্রত্যাবর্তন। ছবিটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয়ও করেছেন তিনি।



