বলিউড অভিনেতা গোবিন্দর ভাগ্নি ও বিগবস ১৩-খ্যাত অভিনেত্রী আরতি সিং তার বিয়ের আগে ওজন কমাতে যে ডায়েট অনুসরণ করেছিলেন, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তিনি প্রতিদিনের রাতের খাবারে টানা ২৫ দিন শুধু লাউ খেয়ে প্রায় পাঁচ কেজি ওজন কমিয়েছিলেন। তবে পুষ্টিবিদদের মতে এই পদ্ধতি খুব একটা স্বাস্থ্যকর বা দীর্ঘস্থায়ী নয়।
কীভাবে ওজন কমালেন আরতি?
আরতি সিং সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে জানান, বিয়ের ছবিতে রোগা দেখানোর জন্যই তিনি এই ডায়েট করেন। প্রতিদিন রাতে তিনি শুধু লাউ খেতেন, তাও কোনো ভারি মসলা ছাড়া। সামান্য লবণ ও ধনেপাতা দিয়ে সেদ্ধ করে প্রেশারকুকারে রান্না করতেন। তিনি বলেন, 'বিয়ে একবারই করব, তাই ছবিতে রোগা দেখাতেই হতো নিজেকে। আর সে কারণেই এই ডায়েট করেছি।'
পুষ্টিবিদদের মতামত
পুষ্টিবিদরা বলছেন, একটানা একই ধরনের কম ক্যালোরির খাবার খেলে ওজন কমবে স্বাভাবিকভাবেই, কিন্তু সেটি স্বাস্থ্যকর নয়। এ ধরনের ডায়েটে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হয়। প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ভিটামিন ও খনিজের অভাব দেখা দিতে পারে। দ্রুত ওজন কমে যাওয়ার কারণ মূলত শরীরে পানির পরিমাণ কমে যাওয়া, চর্বি নয়। পানি ও পেশির ক্ষয়ের ফলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে।
এ ছাড়া দীর্ঘদিন একঘেয়ে খাবার খেলে ক্লান্তি, দুর্বলতা, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া, আয়রন ও ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি, মাংসপেশি দুর্বল হয়ে পড়া এবং বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ফলে পরে ওজন কমানো আরও কঠিন হয়ে ওঠে।
দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব
এ ধরনের ডায়েটের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এটি দীর্ঘ মেয়াদে টেকে না। একই খাবার বারবার খেতে খেতে বিরক্তি আসে, খাবারের প্রতি আকর্ষণ কমে যায়। হঠাৎ করে স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসে ফিরলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়, যা দ্রুত ওজন বাড়িয়ে দিতে পারে।
স্বাস্থ্যকর উপায়
স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন কমানোর জন্য ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস প্রয়োজন। দানাশস্য, প্রোটিন, ফাইবার, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, বিভিন্ন সবজি ও কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। এর সঙ্গে নিয়মিত শরীরচর্চাও জরুরি। প্রতি সপ্তাহে সর্বোচ্চ এক কেজি ওজন কমানো নিরাপদ এবং দীর্ঘস্থায়ী ফলাফল দেয়।



