ইসলাম নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা দূর করতেই ‘হক’ সিনেমা: বলিউড নির্মাতা
ইসলাম নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা দূর করতেই ‘হক’ সিনেমা

বলিউড নির্মাতা সুপর্ণ ভার্মা জানিয়েছেন, ইসলাম সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করাই তাঁর চলচ্চিত্র ‘হক’-এর মূল উদ্দেশ্য। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই চলচ্চিত্রটি বিশ্বাস ও একটি সম্প্রদায়কে ন্যায্যভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি ‘যুক্তির কণ্ঠস্বর’ হয়ে উঠতে চেয়েছে।

ইয়ামি গৌতমকে কুরআন শেখার উৎসাহ

সাক্ষাৎকারে ভার্মা জানান, ছবির প্রধান চরিত্র শাজিয়া বানোতে অভিনয় করা ইয়ামি গৌতমকে তিনি কুরআন শেখার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘চার মাস সময় নিয়ে সে ভাষা ও উচ্চারণ বোঝার চেষ্টা করেছে। আমরা যেভাবে কুরআন ব্যবহার করেছি, তা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়েছে। এ কারণেই আমি ছবিটি ‘ইকরা’ শব্দ দিয়ে শেষ করেছি।’

গল্পের বাস্তবতা ও দর্শকের সংযোগ

গল্পটি বাস্তব জীবনের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ—এমন প্রশ্নের জবাবে ভার্মা বলেন, অনেকেই শাজিয়ার গল্পের সঙ্গে নিজেদের মিল খুঁজে পেয়েছেন। ‘সত্যি বলতে, আপনি ভালোবাসার আশা করেন, কিন্তু হক যেভাবে মানুষের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করেছে, তা একপ্রকার সুনামির মতো,’ যোগ করেন তিনি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইসলাম নিয়ে ভ্রান্ত তথ্যের যুগ

ইসলাম নিয়ে ভ্রান্ত তথ্য ও বিভ্রান্তি প্রসঙ্গে ভার্মা বলেন, ‘ইসলামকে ঘিরে অসংখ্য ভুল ধারণা রয়েছে। আমরা এখন ভ্রান্ত তথ্যের যুগে বাস করছি। অ্যান্ড্রু টেটের মতো ব্যক্তিকে যারা বোঝে ও সমর্থন করে—তাদের নিয়েই যেন এক আলাদা জগৎ তৈরি হয়েছে। আমরা এক বিকৃত বাস্তবতায় বসবাস করছি।’

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে বিতর্কিত ব্রিটিশ-আমেরিকান কিকবক্সার এবং ইন্টারনেট ব্যক্তিত্ব অ্যান্ড্রু টেট ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ওই সময় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেন। সেখানে তিনি আরও লেখেন, ‘যেকোনো খ্রিস্টান যে ভালোয় বিশ্বাস করে এবং মন্দের বিরুদ্ধে সত্যিকারের যুদ্ধ বোঝে তাদের অবশ্যই ধর্মান্তরিত হতে হবে।’ পবিত্র কুরআনের একটি আয়াত শেয়ার করে তিনি লেখেন, ‘সুতরাং ধৈর্য ধরুন, প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর প্রতিশ্রুতিই সত্য’।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যুক্তির কণ্ঠস্বর হতে চায় ‘হক’

বলিউড নির্মাতা ভার্মা আরও বলেন, সবার কাছেই তথ্য আছে, কিন্তু সেটি সঠিক না ভুল—তা বোঝা কঠিন। সেই জায়গা থেকেই আমি চেয়েছি ‘হক’ যেন যুক্তির কণ্ঠস্বর হয়। নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন এই নির্মাতা। তিনি বলেন, ‘আমার সারা জীবনেই মুসলিম বন্ধু ছিল। একজন ভারতীয় হিসেবে আমি বিষয়টি গভীরভাবে বুঝতে চেয়েছি। আমরা প্রায় দেড় বছর সময় নিয়ে ইসলামি আইন নিয়ে গবেষণা করেছি।’

শরিয়াহ আইন ও তিন তালাক প্রসঙ্গে

চলচ্চিত্রটিতে শরিয়াহ আইন ও তিন তালাকের মতো বিতর্কিত বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ভার্মা বলেন, ‘তিন তালাক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আমি ভুল ধারণাগুলো দূর করতে চেয়েছি। মানুষকে বোঝাতে চেয়েছি, ‘মোহর’ আসলে নারীদের জন্য এক ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা।’

চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ জিজ্ঞেস করেন, এখন কেন এ গল্প? ৪০ বছরে নারীদের জন্য কী বদলেছে? তখনো তারা পুরুষশাসিত সমাজে বাস করত, এখনো করে। একই বৈষম্য, একই বাধার মুখোমুখি হয় তারা।’

‘হক’ চলচ্চিত্রে এক নারীর ভরণপোষণ ও সম্মানের জন্য আইনি লড়াই তুলে ধরা হয়েছে। স্বামীর পরিত্যাগ ও তালাকের পর তার ব্যক্তিগত সংগ্রাম কীভাবে নারীর অধিকার নিয়ে জাতীয় বিতর্কে রূপ নেয়, সেটিই ছবির মূল উপজীব্য।