জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী গান ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু দুস্তর পারাবার (কাণ্ডারী হুঁশিয়ার)’-এর শতবর্ষ পালনের আহ্বান জানিয়েছে দেশের ১৪টি জাতীয় ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
যৌথ বিবৃতিতে আহ্বান
৩ জুন ২০২৬ তারিখে সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ এ আহ্বান জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯২৬ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে ক্ষুব্ধ ও বিচলিত হয়ে নজরুল গানটি রচনা ও সুরারোপ করেন। ওই বছরের ২২ মে কৃষ্ণনগরে প্রাদেশিক সম্মিলনীতে তিনি প্রথম গানটি পরিবেশন করেন। পরে এটি ‘বঙ্গবাণী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং ‘কালিকলম’ পত্রিকায় গানের স্বরলিপি ছাপা হয়। একই বছরের জুনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুসলিম সাহিত্য সমাজের অধিবেশনে তিনি গানটি পরিবেশন করেন।
বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা
সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান সময়ে ধর্মীয় বিভাজন, বিদ্বেষ ও সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। তারা বলেন, এই গানের শতবর্ষ উদযাপনের মাধ্যমে নজরুলের মানবতাবাদী বার্তা নতুনভাবে তুলে ধরা সম্ভব।
নেতৃবৃন্দ নজরুলের ১৯২৬ সালে রচিত ‘মন্দির ও মসজিদ’ প্রবন্ধের একটি উক্তিও স্মরণ করিয়ে দেন—“যে নিজের ধর্মের সত্যকে চিনেছে, সে কখনও অন্য ধর্মকে ঘৃণা করতে পারে না।”
উদযাপনের পরিকল্পনা
যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনগুলো দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক আয়োজন, আলোচনা সভা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক কর্মসূচির মাধ্যমে শতবর্ষ উদযাপনের আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিদাতা সংগঠনসমূহ: বাংলাদেশ নজরুলসংগীত সংস্থা, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, বাংলাদেশ গণসংগীত সমন্বয় পরিষদ, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থা, বাংলাদেশ সঙ্গীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ, জাতীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি রক্ষা আন্দোলন, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, সমগীত, সুর সপ্তক, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট, আনন্দধারা (নারায়ণগঞ্জ), বসন্তবাহার সঙ্গীত একাডেমি (নারায়ণগঞ্জ), কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর।



