অবশেষে ভারতে মুক্তি পাচ্ছে অস্কার মনোনীত সিনেমা ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রজব’
অবশেষে ভারতে মুক্তি পাচ্ছে অস্কার মনোনীত সিনেমাটি

একটি বড়সড় ও নাটকীয় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ভারতীয় সেন্সর বোর্ড অবশেষে অস্কার মনোনীত এবং রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল চলচ্চিত্র ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রজব’-কে ভারতে প্রদর্শনের অনুমতি দিয়েছে। এর আগে গত মার্চ মাসে ছবিটির মুক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল দেশটি।

মুক্তির তারিখ ও সার্টিফিকেশন

চলচ্চিত্রটির ওপর থেকে সেন্সরশিপের এই বাধা সরে যাওয়ার পর মুম্বাইভিত্তিক পরিবেশক সংস্থা ‘জয় বিরাত্রা এন্টারটেইনমেন্ট’ নিশ্চিত করেছে যে, আগামী ১৯ জুন সারা ভারতজুড়ে এটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। সপ্তাহব্যাপী তীব্র বিতর্কের পর, ভারতের সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন সিনেমাটিকে কোনো প্রকার কাটছাঁট ছাড়াই প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ‘এ’ সার্টিফিকেট দিয়ে ছাড়পত্র দিয়েছে।

সিনেমার পটভূমি

গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় গাড়ির ভেতর আটকে পড়ে পরবর্তীতে মৃত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ৫ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি শিশু ‘হিন্দ রজব’-এর বাস্তব ও হৃদয়বিদারক ঘটনা নিয়ে নির্মিত হয়েছে এই সিনেমাটি। কাউথার বেন হানিয়া পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি গত সেপ্টেম্বর মাসে ‘ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’-এ ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারের সময় উপস্থিত দর্শকদের কাছ থেকে ২০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে টানা করতালির মাধ্যমে ভূয়সী প্রশংসা কুড়ায়। পরবর্তীতে চলচ্চিত্রটি উৎসবের মর্যাদাপূর্ণ ‘সিলভার লায়ন’ পুরস্কারও জিতে নেয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কেন প্রথমে আটকে দেওয়া হয়েছিল?

জয় বিরাত্রা এন্টারটেইনমেন্টের প্রধান মনোজ নন্দওয়ানা জানান, তিনি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই সেন্সর বোর্ডের কাছে সিনেমাটি জমা দিয়েছিলেন এবং ৬ মার্চ এটি ভারতে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সে সময় সেন্সর বোর্ডের একজন সদস্য তাকে মৌখিকভাবে জানান যে—সিনেমাটি মুক্তি পেলে তা ভারতের সঙ্গে ইসরাইলের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ফাটল ধরাতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রধানমন্ত্রীর ইসরাইল সফর

উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষভাগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইসরাইল সফর করেন। গত ২৫ বছরের মধ্যে কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর এটাই ছিল প্রথম ইসরাইল সফর, যেখানে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। এই সফরটি দুই দেশের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে হলেও, এটি ভারতের দীর্ঘদিনের ফিলিস্তিনপন্থী পররাষ্ট্রনীতি থেকে সরে আসার একটি বড় রাজনৈতিক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

পরিবেশকের বক্তব্য

সেন্সর বোর্ডের এই আপত্তির জবাবে মনোজ নন্দওয়ানা ‘ভ্যারাইটি’-কে বলেছিলেন, ‘আমি তাদের বলেছিলাম, ভারত-ইসরাইল সম্পর্ক এতটা দুর্বল নয় যে একটা সিনেমা তা ভেঙে দেবে। তাছাড়া এই ছবি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইতালি ও ফ্রান্সের মতো দেশেও মুক্তি পেয়েছে, যাদের সঙ্গে ইসরাইলের অত্যন্ত সুদৃঢ় কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।’

স্বস্তি প্রকাশ

সিনেমাটি কোনো কর্তন ছাড়া ছাড়পত্র পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করে জয় বিরাত্রা এন্টারটেইনমেন্ট মঙ্গলবার (২ জুন) এক বিবৃতিতে জানায়, ‘আমরা সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশনের প্রতি আমাদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, সিনেমা হলো গল্পবলা, সংলাপ সৃষ্টি এবং মানুষের বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতাকে বোঝার এক শক্তিশালী মাধ্যম। বোর্ড যেভাবে সিনেমাটির গুরুত্ব অনুধাবন করে এটি মুক্তির পথ সুগম করেছে, তা প্রশংসনীয়।’ বিবৃতিতে তারা ভারতের গণমাধ্যমকর্মী, চলচ্চিত্র জগতের সহকর্মী, নির্মাতা ও কলাকুশলীদের প্রতিও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন, যারা এই সেন্সরশিপের লড়াইয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঝড় তোলা ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রজব’

হলিউডের বড় বড় পরিবেশক সংস্থাগুলো রাজনৈতিক স্পর্শকাতরতার কারণে শুরুতে পিছু হটলেও, শেষ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ছবিটির সহ-প্রযোজনা অংশীদার ‘উইলা’-এর মাধ্যমে এটি সফলভাবে মুক্তি পায়। সূত্র: ভ্যারাইটি।