ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শনী বন্ধে পিয়া জান্নাতুলের ক্ষোভ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ বন্ধে পিয়ার ক্ষোভ

মডেল, অভিনেত্রী ও আইনজীবী পিয়া জান্নাতুল সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া এই চলচ্চিত্রের একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি। তবে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের শিক্ষার্থীদের আপত্তি ও প্রতিবাদের মুখে আয়োজকরা প্রদর্শনীটি স্থগিত করতে বাধ্য হন। এই ঘটনা সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

পিয়া জান্নাতুলের ফেসবুক পোস্ট

পিয়া জান্নাতুল নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘যেখানে যখন যা বলা উচিত না, আমি প্রায়ই সেটাই বলে ফেলি। আর সেই কারণেই অনেক ঝামেলাতেও পড়তে হয়।’ তিনি আরও প্রশ্ন ছুড়ে দেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বনলতা এক্সপ্রেস বন্ধ হয়ে গেল। যারা জুলাইয়ে মাঠে-ঘাটে নেমে দেশ উদ্ধার করতে চলে এসেছিলেন, বিশেষ করে কিছু মিডিয়াকর্মী এবং সেইসব মানুষ, যারা সময় ও পরিস্থিতি অনুযায়ী একেকবার একেক পক্ষের অবস্থান নেন, তারা কি এখন এগিয়ে এসে নিজেদের সিনেমা, নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে রক্ষা করতে পারবেন?’

শিল্প-সংস্কৃতি রক্ষার আহ্বান

পোস্টে তিনি আরও বলেন, ‘দেশ উদ্ধার করার কথা অনেক শুনেছি। এখন দেখার বিষয়, নিজেদের শিল্প, সংস্কৃতি এবং সৃজনশীল অঙ্গন বাঁচানোর সময় তারা কতটা ভূমিকা রাখেন। ধৈর্য নিয়ে দেখছি। সময়ই উত্তর দেবে।’ উল্লেখ্য, শনিবার (৩১ মে) ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর প্রদর্শনী হওয়ার কথা ছিল, যা শেষ পর্যন্ত বাতিল করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রুমিন ফারহানার মানববন্ধন

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাও। তিনি সোমবার (১ জুন) বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুরে সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে একটি মানববন্ধনে অংশ নেন। সড়কের পাশে আয়োজিত এই মানববন্ধনে রুমিন ফারহানা প্রদর্শনী বন্ধের প্রতিবাদ জানান এবং সংস্কৃতির রাজধানী হিসেবে পরিচিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সরকারের প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

পিয়া জান্নাতুলের এই ক্ষোভ ও রুমিন ফারহানার প্রতিবাদ সাংস্কৃতিক কর্মীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, এই ঘটনা দেশের চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি চর্চার স্বাধীনতা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছে।