অনুপম খেরের সঙ্গে কিরণের ৪১ বছরের দাম্পত্য: বন্ধুত্বই মূল চাবিকাঠি
অনুপম খেরের সঙ্গে কিরণের ৪১ বছরের দাম্পত্য: বন্ধুত্বই মূল চাবিকাঠি

অনুপম খের ও কিরণ খের। চার দশকের বেশি সময় একসঙ্গে কাটানোর পরও অনুপম খের এখনো অবাক হন তাঁর আর কিরণ খের সম্পর্কে ভাবলে। একসময়ের কলেজের সিনিয়র সেই মানুষই পরে হয়ে উঠবেন তাঁর জীবনসঙ্গী—এমনটা তিনি কখনো কল্পনাও করেননি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অনুপম খের বলেন, ‘এ কারণেই আমি বলি, জীবনে কিছুই অসম্ভব নয়। তখন আমার কোনো ধারণাই ছিল না যে একদিন আমরা প্রেমে পড়ব, বিয়ে করব।’ আজ তাঁদের দাম্পত্য জীবনের ৪১ বছর। দীর্ঘ এই পথচলায় প্রেমের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সম্মান আর সহমর্মিতা।

প্রথম পরিচয়

চণ্ডীগড়ের থিয়েটার বিভাগে প্রথম পরিচয় হয়েছিল দুজনের। কিরণ তখন অনুপমের এক বছরের সিনিয়র। কলেজজুড়ে তাঁর আলাদা পরিচিতি ছিল। ইংরেজি নাটকে অভিনয় করতেন, আবার বোনের সঙ্গে ভারতের হয়ে ব্যাডমিন্টনও খেলেছিলেন। সেই সময়ের কথা মনে করে অনুপম বলেন, ‘তিনি ছিলেন একেবারে তারকা। আমি কখনো ভাবিইনি, তাঁর সঙ্গে আমার জীবনে কিছু ঘটতে পারে। তবে তাঁর হৃদয়টা ছিল সবচেয়ে বড়।’

মুম্বাইয়ে আগমন

পরে দুজনই মুম্বাইয়ে চলে আসেন। তখন কিরণ খেরের বিয়ে হয়েছিল ব্যবসায়ী গৌতম বেরির সঙ্গে। আর অনুপম তখন বলিউডে নিজের জায়গা তৈরি করার সংগ্রামে ব্যস্ত। সেই কঠিন সময়ের স্মৃতিও ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেতা। তিনি বলেন, বন্ধু সতীশ কৌশিককে নিয়ে প্রায়ই কিরণের বাড়িতে যেতেন। মজার ছলে তাঁরা বলতেন, ‘আপনার বাড়িতে আসব, তবে ফেরার ট্যাক্সিভাড়া দিতে হবে।’ অনুপমের ভাষায়, ‘আমরা তাঁর কাছ থেকে ট্যাক্সিভাড়া নিতাম, কিন্তু পরে বাসে করে ফিরতাম, যাতে পুরো সপ্তাহটা চালানো যায়।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বন্ধুত্ব থেকে প্রেম

বন্ধুত্ব থেকে সম্পর্কে রূপ নিতে অবশ্য সময় লেগেছিল। দুজনেই তখন ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময় পার করছিলেন। অনুপম একদিকে সম্পর্ক ভাঙার যন্ত্রণার মধ্যে ছিলেন, অন্যদিকে কিরণও বৈবাহিক জীবনে সমস্যার মুখোমুখি। সেই দুর্বলতার সময়ই তাঁদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়। পরে ১৯৮৫ সালে বিয়ে করেন তাঁরা। কিরণের প্রথম সংসারের ছেলে কিকান্দার খেরকেও নিজের সন্তানের মতোই বড় করেছেন অনুপম খের।

দাম্পত্যের মূলমন্ত্র

এক পুরোনো সাক্ষাৎকারে অনুপম বলেছিলেন, দীর্ঘ দাম্পত্য টিকিয়ে রাখার আসল শক্তি শুধু প্রেম নয়। তাঁর মতে, ‘৪০ বছরের বিবাহিত জীবনে সব সময় শুধু ভালোবাসা দিয়ে থাকা সম্ভব নয়। হতাশাও আসে, মনোমালিন্যও হয়। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পারস্পরিক সম্মান।’ অনুপম খের আরও বলেন, তাঁদের সংসারে কখনো ‘নায়ক-নায়িকা’ ধরনের দূরত্ব ছিল না। ‘আমরা একে অপরের সমান। আমাদের বাড়িতে কোনো ফিল্মি আবহ নেই,’ বলেন তিনি। সাক্ষাৎকারে মজার ছলে অনুপম বলেন, ৪১ বছরের দাম্পত্য জীবনে কিরণ কখনো এক কাপ চা–ও বানিয়ে খাওয়াননি। কারণ, কিরণ রান্নার কিছুই পারেন না।

জীবনের অপূর্ণতা

সম্প্রতি আরেক সাক্ষাৎকারে অনুপম খের স্বীকার করেন, জীবনের এই পর্যায়ে এসে মাঝেমধ্যে তাঁর মনে হয়, যদি তাঁদের নিজেদের একটি সন্তান থাকত, তাহলে সেটিও হয়তো সুন্দর এক অভিজ্ঞতা হতো। যদিও তিনি এটিকে জীবনের অপূর্ণতা হিসেবে দেখেন না।

সারমর্ম

তবে এত বছরের সম্পর্কের সারমর্ম কী? অনুপমের উত্তর, ‘অবিশ্বাস্য রকমের সহমর্মিতা, পারস্পরিক সম্মান, দয়া আর বন্ধুত্ব। শেষ পর্যন্ত এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’