অভিনেতা তৌকীর আহমেদ বললেন, ‘আমরা অনেক অনেক দিন পর একসঙ্গে হয়ে একটা প্রাপ্তবয়স্কদের ফিল্মে অভিনয় করছি।’ তৌকীরকে দেখলে গম্ভীর মনে হলেও তিনি রসিক মানুষ। প্রায় ১০ বছর আগে বিপাশা হায়াতের টেলিফিল্মে একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন তারা।
অভিনয়ের বন্ধন
কার সঙ্গে কখন অভিনয় হচ্ছে, তা হিসাব করা হয়। শ্রদ্ধেয় আলী যাকের, আবদুল্লাহ আল–মামুন, গোলাম মুস্তাফাদের সঙ্গে আর অভিনয়ের সুযোগ হবে না। হুমায়ুন ফরীদির সঙ্গে শেষ অভিনয় কবে, তা মনে পড়ে। ফরীদির সঙ্গে অভিনয় ছিল আনন্দের।
ফুটবলের পাসের মতো অভিনয়েও দেওয়া–নেওয়া ও বোঝাপড়া দরকার। একজন শিল্পীকে সহশিল্পীর প্রতি সচেতন থাকতে হয়। মনেপ্রাণে চরিত্র ধারণ করে অভিনয় খোলে। সহশিল্পীর গুণ সাহস জোগায়।
ফেরদৌসী মজুমদারের প্রেরণা
সম্প্রতি মঞ্চে ফেরদৌসী মজুমদারের লাভ লেটার নাটকে অভিনয় দেখে মনে হলো, শিল্পীর শরীর বয়সের ভারে ন্যুব্জ হলেও তাঁর শক্তি অসাধারণ। ৫০ বছর অভিনয়ের প্রেমে কেটেছে। অনেক শিল্পীর সঙ্গে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা অসাধারণ, কিন্তু সবার সঙ্গে হয়নি।
ফেরদৌসী মজুমদারের সঙ্গে অভিনয় বিশেষ প্রাপ্তি। এখন তিনি বেশিক্ষণ দাঁড়াতে পারেন না, কিন্তু হার না–মানা মানুষ। প্রকৃত শিল্পী কোমল ও কঠিন। প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজ কর্মের গৌরব ধরে রাখেন।
ইচ্ছাপত্র টেলিছবি
জোহরা বেগমের ইচ্ছাপত্র তৌকীর আহমেদের লেখা টেলিফিল্ম। পরিচালক আরিফ খান ঈদে নির্মাণ করতে চান। মাসখানেক আগে পাণ্ডুলিপি পড়ে ভালো লাগে। তৌকীরকে বলি, এটা বড় পর্দার ছবি হতে পারত।
আজকাল টেলিভিশন নাটকের জন্য মহড়া হয় না। কিন্তু ইচ্ছাপত্র–এ সবার ইচ্ছা জাগে মহড়ার। মহড়ায় দীর্ঘ সময় কাটিয়ে মনে হয়, পুরোনো জীবন ফিরে পেয়েছি। অধিকাংশ শিল্পী মঞ্চের সঙ্গে জড়িত, তাই একসঙ্গে অভিনয়ের আগ্রহ বেশি।
মহড়ার আনন্দ
মহড়ার তারিখ ঠিক করা হয়। মামুনুর রশীদের ব্যস্ততা সত্ত্বেও তিনি আসবেন বলে জানান। তিনি বলেন, ‘যে করেই হোক আমি ঘণ্টা দুয়েকের জন্য আসব, থাকব সবার সঙ্গে।’
সবার মধ্যে সাজ সাজ রব। ফেরদৌসী মজুমদার অভিনয় করবেন, তা উৎসবের মতো। নির্মাতা আরিফ খান বিশেষ খাওয়ার ব্যবস্থা করেন। লেখার জন্য তৌকীর ও রান্নার জন্য আরিফ প্রশংসা পান।
প্রজন্মের মিলন
রওনক হাসান, জাকিয়া বারী মম, দীপা খন্দকার পরের প্রজন্ম। তৌকীর আহমেদ আমার পরের প্রজন্ম। ফেরদৌসী মজুমদার, মামুনুর রশীদ আগের প্রজন্ম। কয়েক প্রজন্ম একসঙ্গে নাটকে অভিনয় করা বিশেষ ঘটনা।
শুটিংয়ের জন্য গুলশানের একটি বাড়ি ভাড়া করা হয়। বাড়ির মালিক বলেন, ‘এ বাড়ি ভেঙে ফেলা হবে, আপনাদের স্মৃতি শেষ মধুর স্মৃতি হবে।’
মধুর স্মৃতি
সবাই শুধু অভিনয় করেনি, পরস্পরকে অনুভব করেছে। এক সন্ধ্যায় তৌকীর হেসে বলে, ‘কদিন বড়দের সাথে ওঠাবসায় মনে হচ্ছে, প্রাপ্তবয়স্কদের নাটকে অভিনয় করছি।’ সবাই হাসে।
মনে হয়, এই তো সেদিন আমরা রেলভ্রমণে ভুল স্টেশনে নেমেছিলাম। পরের ট্রেন আসার আগে সময় কেটেছে চমৎকার। একসময় সবাই নিজ গন্তব্যের ট্রেনে উঠেছি। আবার কখনো এক স্টেশনে নেমে মধুর স্মৃতি রচনার সুযোগ আসবে। আশা থাকে বলেই জীবন মধুর।



