রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে বনলতা এক্সপ্রেসের ছাদে যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। অনেকেই যাচ্ছেন দরজায় ঝুলে। আজ মঙ্গলবার ঈদযাত্রার চতুর্থ দিনে সকাল থেকে ছেড়ে যাওয়া আন্তনগর ট্রেনগুলোতে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কিছু কিছু ট্রেনের ভেতরে জায়গা না পেয়ে ঝুঁকি নিয়ে ছাদেও যাত্রীদের ঢাকা ছাড়তে দেখা গেছে।
নিরুপায় যাত্রীদের গল্প
সবুজ মণ্ডল ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জে যাচ্ছেন পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে। তিনি বলেন, 'বছরে দুটি ঈদে ছুটি পাই। এ সময় যদি পরিবারের কাছে যেতে না পারি, তাহলে আর যাওয়া হবে না। তাই কষ্ট হলেও যেতে হবে, কিছুই করার নেই।' রাজধানীর একটি হাসপাতালে চাকরি করা সবুজ মণ্ডল ট্রেনের বগির দরজায় কোনো মতে বসে পড়েছেন। টিকিট না পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'অনেক চেষ্টা করেছি। টিকিট পাইনি। সকাল ৮টায় টিকিটের জন্য সাইটে ঢুকেই দেখি টিকিট নেই। তাই কোনো উপায় না পেয়ে স্ট্যান্ডিং টিকিট নিয়েছি। কিন্তু এখানে এসে দেখি প্রচণ্ড ভিড়। তাই কিছুটা ঝুঁকি হলেও উঠে পড়লাম।'
নড়াইলের একটি ব্যাটারি কারখানায় চাকরি করা মোহন ভট্টাচার্য পরিবারের সঙ্গে ঈদের ছুটি কাটাতে টাঙ্গাইল যাবেন। তিনি নড়াইল থেকে ট্রেনে করে কমলাপুর আসেন, তারপর টাঙ্গাইল যেতে উঠে পড়েন বনলতা এক্সপ্রেসে। প্রচণ্ড ভিড়ে ট্রেনের দরজায় ঝুলে আছেন তিনি। মোহন ভট্টাচার্য বলেন, 'আমরা তো নিরুপায়, কী করব? বাড়িতে তো যেতেই হবে। বছরে দুটি ঈদে ছুটি পাওয়া যায়। পরিবারের সঙ্গে ঈদের ছুটি কাটাতে না পারলে তো ভালো লাগবে না। তাই যেভাবেই হোক যেতেই হবে।'
রেলওয়ের অবস্থান
দুপুর ১২টার দিকে কমলাপুর রেলওয়ে পরিদর্শনে আসেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, সকাল থেকে বেশির ভাগ ট্রেনই যথাসময়ে ছেড়ে গেছে। তেমন কোনো ঝামেলা হয়নি। যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি ফিরছেন। ট্রেনের ছাদে যাত্রীদের ওঠা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'ট্রেনের ছাদে ওঠা দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা ছাদে উঠতে নিরুৎসাহিত করি। তারপরও মানুষ আইনটা মানে না। তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছাদে ভ্রমণ করে। আমরা চেষ্টা করি নিয়ন্ত্রণ করার। তবে সব ট্রেন নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। যাত্রীর এত বেশি চাপ থাকে যে অনেক মানুষ ছাদে উঠে যায়, তখন সবাইকে নামাতে গেলেও আবার বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, ট্রেন ছাড়তে দেরি হয়।'
ঈদযাত্রার যাত্রীদের চাহিদার আলোকে ট্রেনের সংখ্যা কম বলে জানান রেলওয়ের এই মহাপরিচালক। অতিরিক্ত ট্রেন কেনা ও ঈদযাত্রার জন্য ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।



