কান উৎসবে ফরহাদির ‘প্যারালাল টেলস’-এর দর্শকপ্রিয়তা
কান উৎসবে ফরহাদির ‘প্যারালাল টেলস’-এর সাড়া

গতকাল কান উৎসবে দুই ফরাসি অভিনেত্রী ইজাবেল হুপার ও কাত্রিন দ্যনোভের সঙ্গে ইরানি নির্মাতা আসগর ফরহাদি উপস্থিত ছিলেন। আলোচিত এই নির্মাতা আবার ফিরলেন কান উৎসবে, এবং ফিরেই নিজের নতুন সিনেমা দিয়ে সব আলো নিজের দিকে কেড়ে নিলেন। তিনি উৎসব মাতিয়েছেন নতুন ফরাসি ভাষার সিনেমা ‘প্যারালাল টেলস’ দিয়ে।

প্রিমিয়ারে দর্শকের অভিবাদন

বৃহস্পতিবার রাতে কান উৎসবে ছবিটির প্রিমিয়ারের পর দর্শকের দাঁড়িয়ে অভিবাদন চলেছে টানা সাড়ে পাঁচ মিনিট। সেই মুহূর্তে আবেগাপ্লুত ফরহাদি দর্শকদের দিকে উড়ন্ত চুমু ছুড়ে দেন। ছবিটিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন নন্দিত ফরাসি অভিনেত্রী ইজাবেল হুপার। প্রিমিয়ারে উজ্জ্বল লাল গাউনে হাজির হওয়া এই অভিনেত্রীকে ঘিরেও ছিল ব্যাপক আগ্রহ। অভিবাদনের সময় ফরহাদি তাঁর সহশিল্পী ক্যাথরিন দেনেভ ও ভার্জিনি এফিরাকে জড়িয়ে ধরেন। অন্যদিকে হুপার শান্ত হাসি নিয়ে পুরো সময়টুকু দর্শকদের প্রতিক্রিয়া উপভোগ করেন।

ছবির গল্প ও চরিত্র

২ ঘণ্টা ২০ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই ড্রামা ছবির গল্প আবর্তিত হয়েছে কয়েকজন কৌতূহলী প্রতিবেশীকে ঘিরে, যাদের জীবন একসময় অদ্ভুতভাবে জড়িয়ে যায়। ছবিতে হুপার অভিনয় করেছেন সিলভি নামের এক লেখকের চরিত্রে, যিনি নিজের নতুন উপন্যাসের অনুপ্রেরণা খুঁজতে রাস্তার ওপারের প্রতিবেশীদের ওপর নজর রাখেন। পরে তিনি নিজের দৈনন্দিন কাজে সহায়তার জন্য তরুণ আদামকে নিয়োগ দেন। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই তরুণ তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও লেখালেখির জগৎ—দুই–ই ওলট–পালট করে দেয়। একসময় সিলভির কল্পনার গল্প বাস্তবতাকেও ছাড়িয়ে যেতে শুরু করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতিযোগিতা বিভাগে স্থান

কানের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার পাম দ’রের প্রতিযোগিতা বিভাগে জায়গা পেয়েছে ছবিটি। এর আগেও ফরহাদি একাধিকবার এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। ২০১৩ সালে তাঁর প্রথম ফরাসি ভাষার ছবি ‘দ্য পাস্ট’ পাম দ’রের দৌড়ে ছিল। এরপর ‘দ্য সেলসম্যান’ জিতেছিল সেরা চিত্রনাট্যের পুরস্কার। এ ছাড়া ‘এভরিবডি নোজ’ ও ‘আ হিরো’ও কানে আলোচিত হয়েছিল। বিশেষ করে ‘আ হিরো’ ২০২১ সালে গ্রাঁ প্রি পুরস্কার জেতে।

ফরহাদির ইরান প্রসঙ্গ

দুবারের অস্কারজয়ী ফরহাদি ২০২৩ সাল থেকে ইরানের বাইরে বসবাস করছেন। তিনি আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, ইরানে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনে বাধ্যতামূলক হিজাব নীতির পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত তিনি নিজ দেশে আর সিনেমা নির্মাণ করবেন না। গত এপ্রিলে ইরান যুদ্ধের উত্তেজনা বৃদ্ধি নিয়েও সরব হয়েছিলেন এই নির্মাতা। এক বিবৃতিতে তিনি সহকর্মী চলচ্চিত্র নির্মাতাদের যুদ্ধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি দেশের অবকাঠামোয় হামলা চালানো যুদ্ধাপরাধ। মতাদর্শ বা রাজনৈতিক অবস্থান যা–ই হোক না কেন, এই অমানবিক, বেআইনি ও ধ্বংসাত্মক প্রক্রিয়া বন্ধে সবাইকে এক হতে হবে।