ভিন্ন ধর্মের ছেলেকে বিয়ে করে আলোচনায় মহাকুম্ভের মোনালিসা
মহাকুম্ভের মোনালিসার ভিন্ন ধর্মের বিয়ে, আলোচনায়

ভিন্ন ধর্মের ছেলেকে বিয়ে করে আলোচনায় মহাকুম্ভের মোনালিসা

ভারতের প্রয়াগরাজে মহাকুম্ভ মেলায় মালা বিক্রি করে রাতারাতি জনপ্রিয়তা পাওয়া মোনালিসা এবার ভিন্ন ধর্মের ছেলেকে বিয়ে করে ফের আলোচনায় এসেছেন। তার স্বামী ফরমান খান, যাকে নিয়ে তিনি সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন ডেকে মুখ খুলেছেন। এই বিয়েকে কেন্দ্র করে 'লাভ জিহাদ' অভিযোগ ও পরিবারের বাধার মুখে পুলিশি পাহারায় তিরুঅনন্তপুরমে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিয়ের পেছনের গল্প

মোনালিসা, যার আসল নাম মণি ভোসলে, গত বছর মহাকুম্ভে তার চোখের সৌন্দর্যের জন্য ভাইরাল হন। এরপর তিনি মডেলিং ও অভিনয়ে হাতেখড়ি দেন। এবার তার জীবনের বড় পদক্ষেপ হলো ফরমান খানকে বিয়ে করা। ছয় মাস আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের আলাপ হয়। মোনালিসার দাবি, ভিন্ন ধর্মের যুবককে পছন্দ করায় তিনি পরিবারের প্রবল বাধার মুখে পড়েন।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোনালিসা যখন তার প্রেমের কথা বাড়িতে জানান, তখন তার পরিবার দ্রুত অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এমনকি তার চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়েছিল, যা তিনি মানতে পারেননি। অনেক বাধা পেরিয়ে তিনি ফরমানকে বিয়ে করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সংবাদ সম্মেলনে মোনালিসার বক্তব্য

তার স্বামী ফরমান খান 'লাভ জিহাদ' অভিযোগে আক্রমণের শিকার হওয়ায় মোনালিসা সংবাদ সম্মেলন ডাকেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, 'আমার স্বামী আমাকে বিয়ে করতে চাননি, আমিই তাকে জোর করি। হিন্দু ধর্ম মেনে আমাদের বিয়ে হয়েছে। তাই এ সম্পর্ককে 'লাভ জিহাদের' আঙ্গিক দেবেন না।' তিনি আরও উল্লেখ করেন যে পরিবারের অমতেই এই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ব্যক্তিগত পরিচয় ও বর্তমান অবস্থা

ফরমান খান মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা, অন্যদিকে মোনালিসা মধ্যপ্রদেশের ইদোরের। বর্তমানে মোনালিসা 'নাগাম্মা' নামে একটি মালায়ালম ছবির শুটিং করছেন। ২০২৫ সালে মহাকুম্ভে তার ভাইরাল হওয়ার পর থেকে তার জীবন আমূল বদলে গেছে। ছবি ও বিজ্ঞাপনের একের পর এক প্রস্তাব আসতে থাকে, যা তাকে রাতারাতি তারকা বানিয়ে দেয়।

এই বিয়ের ঘটনা সামাজিক মাধ্যম ও সংবাদপত্রে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এটিকে ধর্মীয় সহিষ্ণুতার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে সমালোচনাও করছেন। মোনালিসার এই সিদ্ধান্ত তার ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি পেশাগত দিক থেকেও নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।