নিউ ইয়র্ক সিটির ফার্স্ট লেডি রামা দুয়াজির সঙ্গে ক্যাফেতে এক ব্যক্তিগত আলাপচারিতার কথা জনসমক্ষে এনে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন বর্তমান ‘মিস ইসরাইল’ মেলানি শিরাজ। ফার্স্ট লেডির কট্টর ইসরাইলবিরোধী অবস্থানের কারণে তিনি সরাসরি তার মুখোমুখি হয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন এই সুন্দরী প্রতিযোগিতার বিজয়ী।
ঘটনার বিবরণ
মেলানি শিরাজ জানান, নিউ ইয়র্কে ইসরাইলি কনসুলেটের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে যোগ দিতে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি একটি ক্যাফেতে কফি খাচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় রামা দুয়াজি সেখানে প্রবেশ করেন এবং তার পাশের টেবিলে বসেন। শিরাজ বলেন, ‘আমি আগে থেকেই তার অনলাইনে ছড়ানো ইসরাইলবিরোধী বক্তব্যগুলো দেখেছি। তাই সরাসরি তার সঙ্গে কথা বলার এই সুযোগ আমি হাতছাড়া করতে চাইনি।’
শিরাজ আরও যোগ করেন, ‘শুরুতে আমি নিজের আসল পরিচয় না দিয়ে শুধু ‘মেলানি’ হিসেবে পরিচয় দিই। তিনি খুব হাসিমুখে কথা বলেন এবং আমার সঙ্গে ছবি তুলতেও রাজি হন। কিন্তু যখনই আমি জানালাম যে আমি একজন ইসরাইলি এবং বর্তমানের ‘মিস ইসরায়েল’, তখনই তার আচরণের ধরন বদলে যায়। যদিও ফার্স্ট লেডি হিসেবে তার দায়িত্ব অনুযায়ী তিনি যথেষ্ট মার্জিত ও সৌজন্যমূলক আচরণই বজায় রেখেছিলেন।’
সংলাপের প্রচেষ্টা
শিরাজ দাবি করেন, তিনি একটি ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ শুরু করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি ফার্স্ট লেডিকে বলেন, ‘আপনার অনলাইনে প্রচার করা ইসরাইলবিরোধী বক্তব্যগুলো দেখে আমি হতাশ হয়েছি। ইসরাইলের প্রতিনিধি হিসেবে আমার কাজ হলো বিপক্ষ মতের মানুষের সঙ্গেও গঠনমূলক সংলাপ করা।’
তবে শিরাজের মতে, রামা দুয়াজি এই আলাপচারিতা দীর্ঘ করতে আগ্রহী ছিলেন না। তিনি কিছুটা উদাসীনভাবে মাথা নেড়ে এড়িয়ে যান। শিরাজ তাকে প্রশ্ন করেন, তিনি কি কখনো এর আগে কোনো ইসরাইলির সঙ্গে কথা বলেছেন? জবাবে দুয়াজি কিছুটা তাচ্ছিল্যের সুরে ‘হ্যাঁ, বলেছি’ বলে জানান এবং তার অনেক ইসরাইলি বন্ধু আছে বলেও উল্লেখ করেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ইন্টারনেটে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত মুহূর্তের আলাপচারিতাকে এভাবে জনসমক্ষে এনে শিরাজ ফার্স্ট লেডির ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করেছেন এবং পরিস্থিতিকে অহেতুক ঘোলাটে করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘তিনি তো সৌজন্যমূলক আচরণই করেছেন। কারো সঙ্গেই কথা বলতে তিনি বাধ্য নন, তাহলে এখানে এতো ক্ষোভের কী আছে?’
পূর্বের বিতর্ক
উল্লেখ্য, জোহরান মামদানির স্ত্রী রামা দুয়াজি এর আগেও তার কড়া ইসরাইলবিরোধী মন্তব্যের জন্য তোপের মুখে পড়েছিলেন। তবে ২০২৬ সালের এপ্রিলে তিনি তার পুরোনো কিছু বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন এবং স্বীকার করেছিলেন যে সেই বক্তব্যগুলো অনেকের জন্য পীড়াদায়ক ছিল।



