বলিউডের ভাইজানখ্যাত অভিনেতা সালমান খান আজ শোকাতুর। তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী, ছায়াসঙ্গী ও অত্যন্ত কাছের মানুষ সুশীল কুমারের প্রয়াণে ভেঙে পড়েছেন তিনি। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন সুশীল কুমার। জীবনের কঠিন সময়েও হাসি মুখে থাকতেন তিনি। রোববার (৩ মে) মারা যান ভাইজানের এই ছায়াসঙ্গী।
গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টে নিস্তব্ধতা
সুশীল কুমারের প্রয়াণে সালমানের ‘গ্যালাক্সি’ অ্যাপার্টমেন্টে এখন নিস্তব্ধতা। প্রায় তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বলিউডের নানা চড়াই-উতরাইয়ের সাক্ষী থাকা এই ছায়াসঙ্গীর চলে যাওয়া যেন সালমানের জীবনের একটি স্তম্ভকেই সরিয়ে দিয়েছে।
আবেগঘন ফেয়ারওয়েল নোট
পর্দার সুপারম্যান হতে পারেন ভাইজান, কিন্তু বাস্তবের সালমান খান যে কতটা সংবেদনশীল, তা আরও একবার ধরা পড়েছে তার লেখনীতে। তার অতি প্রিয় বন্ধু ও দীর্ঘ চার দশকের সঙ্গী সুশীল কুমারের প্রয়াণে সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন তিনি। সালমান লিখেছেন এক দীর্ঘ ও আবেগঘন ‘ফেয়ারওয়েল নোট’। সুশীল কুমারের সঙ্গে একটি পুরোনো ছবি শেয়ার করে অভিনেতা কার্যত তার জীবনের এক বিরাট অধ্যায়কে চিরবিদায় জানিয়েছেন।
পোস্টে সালমান খান লিখেছেন— এই মানুষটি গত ৪২ বছর ধরে আমার ভাইয়ের মতো ছিল। সবচেয়ে ভালো, দয়ালু ও পরোপকারী একজন মানুষ ছিলেন তিনি। এমনকি যখন সে নিজে সমস্যায় জর্জরিত, তখনো হাসত, নাচত— কোনো কষ্ট বা দুশ্চিন্তা ছিল না তার মধ্যে। ভাইজান বলেন, আর্থিক, মানসিক কিংবা শারীরিক— পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, সুশীলের মুখে সবসময় একটাই কথা থাকত— ‘কি ফারক নাই পৈন্দা, সব ঠিক হোগা’ (কিছু যায় আসে না, সব ঠিক হয়ে যাবে)।
জীবনমুখী বার্তা
শোকের মাঝেও সালমান খান তার অনুরাগীদের এক জীবনমুখী বার্তা দিয়েছেন। ভাইজান লিখেছেন— তোমার জন্য কোনো চোখের জল নেই ভাই, আছে শুধু তোমার সঙ্গে কাটানো কিছু স্মৃতি আর হাসি। কেউ আগে যাবে, কেউ পরে— আমাদের সবাইকেই একদিন চলে যেতে হবে। তিনি বলেন, আমরা জানি না কখন বা কীভাবে সেই সময় আসবে, তাই যাওয়ার আগে জীবনে অন্তত ভালো কিছু করে যাওয়া উচিত বলে মনে করেন সালমান খান।
মৃত্যুর মুহূর্ত স্মরণ
সুশীলের মৃত্যুর মুহূর্তটি স্মরণ করে সালমান অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানান, ‘ঠিক ৫ মিনিট আগে পর্যন্ত ওর নাম ছিল সুশীল কুমার। বিদায় বন্ধু। ও একজন প্রকৃত পুরুষের মতো বেঁচে ছিল এবং মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেছে একজন হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়নের মতো।’ সালমান বলেন, মৃত্যু তাকে কাবু করতে পারলেও তার হাসি কেড়ে নিতে পারেনি। আমার ভাই মুখে হাসি নিয়েই চিরনিদ্রায় চলে গেল।
একেবারে ব্যক্তিগত ঢঙে সালমান তার প্রিয় বন্ধুর প্রিয় জিনিসগুলো মনে করিয়ে দিয়ে লিখলেন— এখন ওপারে গিয়ে সিগারেট আর হুইস্কি উপভোগ করো বন্ধু। চিয়ার্স! আমার মনে হয় আমি তোমাকে একটু বেশিই মিস করব।



