বলিউডে মাফিয়া আছে, সুশান্ত ও জিয়ার মৃত্যুর পেছনে তাদের হাত: তনুশ্রী দত্ত
বলিউড মাফিয়ার হাত সুশান্ত ও জিয়ার মৃত্যুতে: তনুশ্রী

তবলিউড তারকা সুশান্ত সিং রাজপুত ও জিয়া খানের মৃত্যুর পেছনে বলিউড মাফিয়ার হাত রয়েছে বলে মন্তব্য করে আবার আলোচনায় এসেছেন অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত। ২০০৫ সালে ইমরান হাশমির সঙ্গে ‘আশিক বানায়া আপনে’ ছবি দিয়ে আলোচনায় আসার পর সেভাবে হিট ছবিতে পাওয়া যায়নি তাঁকে। ইন্ডাস্ট্রি থেকে হারিয়ে যাওয়ার নেপথ্য কারণ হিসেবে বহুবার তিনি বিটাউনের অন্ধকার দিক নিয়ে অভিযোগ করেছেন। শুধু তা–ই নয়, ‘মি টু’ আন্দোলনের সময়ও সরব হয়েছিলেন তনুশ্রী দত্ত। এবার বলিউডের মাফিয়া রাজত্ব নিয়ে সরব হলেন তিনি।

তনুশ্রীর দাবি

তনুশ্রীর দাবি, সুশান্ত ও জিয়া দুজনই সে সময় মানসিকভাবে ভীষণ বিপর্যস্ত ছিলেন। দুজনের অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর নেপথ্যে আজও রহস্যের গন্ধ পান তিনি। চাকচিক্যের আড়ালে বহু বাস্তবতা যে চাপা পড়ে যায়, সেটাও স্পষ্ট করেছেন তনুশ্রী। বিটাউনের অন্দরের এমন অনেক ঘটনাই চিরদিনের মতো অন্ধকারে হারিয়ে যায়; সুশান্ত সিং রাজপুত ও জিয়া খানের মৃত্যুকে সেই কঠিন বাস্তবের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলেই মনে করেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘বলিউডে মাফিয়া আছে, অবশ্যই আছে। তাই আজ জিয়া খান আর সুশান্ত সিং রাজপুত আমাদের মধ্যে নেই। যদি মাফিয়া না থাকত, তাহলে এই প্রতিভাবান, উঠতি তারকারা আজও বেঁচে থাকতেন।’

বলিউড মাফিয়াদের ইশারা

তনুশ্রীর দাবি, যাঁরা বলিউড মাফিয়াদের ইশারায় চলেন না বা নিয়ম মানেন না, তাঁরাই সমস্যায় পড়েন। যদি তাঁদের মতের বিরোধিতা করা হয়, তাহলে ক্যারিয়ার ধ্বংস হয়ে যাবে। তাঁদের তৈলমর্দন না করলেই ‘আউটসাইডার’ বলে ধীরে ধীরে ‘পথের কাঁটা’ সরিয়ে ফেলা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আত্মহত্যা নয়, হত্যা?

অভিনেত্রীর ফেসবুক পেজ থেকে তনুশ্রী আরও বলেন, ‘তাঁরা (সুশান্ত ও জিয়া) মানসিকভাবে প্রচণ্ড বিধ্বস্ত ছিলেন। কিন্তু সেটা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হলেও কখনো সত্যটা প্রকাশ্যে আসেনি। আমি বিশ্বাস করি না, তাঁরা আত্মহত্যা করেছেন। যদি আমরা সেটাই মেনে নিই, তাহলেও তো প্রশ্ন ওঠে, কেন আত্মহত্যা করলেন? এমন কোন পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন যার জন্য আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন? কেউ হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্ত নেয় না।’

তনুশ্রীর যুক্তি, কোনো সুস্থ–স্বাভাবিক মানুষ ঘুম থেকে উঠে ঠিক করেন না যে নিজের জীবন শেষ করে ফেলবেন। বিশেষ করে এমন কেউ যিনি সাফল্যের শিখরে ছিলেন। শুধু তা–ই নয়, অভিনেতা হিসেবে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসীও ছিলেন। এটা থেকেই তো স্পষ্ট যে নিশ্চয়ই গুরুতর কিছু ঘটেছিল। আত্মহত্যার ভাবনা তখনই মনে আসে যখন একজন মানুষ মনে করেন যে তাঁর সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই। সেই মারাত্মক অবস্থায় পৌঁছানোর নেপথ্যে কারা ছিল, সেটাই তো বড় প্রশ্ন। এই পেশার সঙ্গে যুক্ত সবাই জানেন যে এটা নয়টা–পাঁচটার চাকরি নয়। শিল্পীরা জানেন, কখনো কাজ হবে, কখনো হবে না। ক্যারিয়ারের ব্যর্থতার জন্য কখনো কেউ এ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। যদি এমন হয়, তাহলে বুঝতে হবে যে কাউকে ইচ্ছাকৃতভাবেই সেই অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে।