দেশের চিকিৎসায় ব্যর্থ হয়ে মেয়েকে নিয়ে চেন্নাই ছুটে গিয়েছিলেন লোপা। বোনকে বাঁচাতে দুই ভাই নিজেদের শরীরের লিভারের অংশ দিতে এক পায়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। ত্রিশ বছর বয়সে সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন কারিনা কায়সার।
মায়ের শোক
প্রাণহীন কারিনাকে নিয়ে ফিরছেন তার মা লোপা। মাতৃত্বের লড়াই-সংগ্রামে কত কঠিন পথই না পাড়ি দিতে হয়, অথচ এমন কঠিন সময়ের মুখোমুখি কখনো হননি তিনি। প্রথমবারের মতো মেয়েকে হারিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করলেন লোপা।
তিনি লেখেন, “জীবনের অনেক বড় বড় পরীক্ষা হাসিমুখে পার করেছি, কখনো কারো কাছে কিছু চাইনি, কারো অপকার করিনি। সবসময় চেষ্টা করেছি মানুষের উপকার করতে। আজ আমার মেয়েকে ছাড়া জীবনের ভার আমি কিভাবে বয়ে বেড়াব, জানি না।”
লিখতে লিখতেই যে কান্নায় ভেসে যাচ্ছিলেন, চোখ ঝাপসা হয়ে আসছিল তা বোঝাই গেল। শোকাতুর মা লিখেছেন, “আপনারা আমাকে শিখিয়ে দিন আমি কিভাবে আমার মেয়ের কাছে যাব। হয়তো আল্লাহকে খুশি করতে পারিনি, সঠিকভাবে অজু করিনি, নামাজ পড়িনি, হয়তো না জেনে অনেকের মনে কষ্ট দিয়েছি। আমাকে মাফ করে দেন। আমার মেয়েটার জন্য দোয়া করেন।”
জানাজার সময়সূচি
কারিনার বাবা কায়সার হামিদ জানান, আজ ১৭ মে বাদ মাগরিব প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে সন্ধ্যা ৭টায় বনানী ডিওএইচএস জামে মসজিদে। দ্বিতীয় জানাজা হবে রাত ৮টায় বনানী দরবার শরিফ মসজিদে। এরপর তৃতীয় ও শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে রাত ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে ভক্ত, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১৮ মে ফজরের পর সকাল ৭টায় আব্দুল্লাহপুর, গজারিয়া, মুন্সিগঞ্জে চতুর্থ জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হবে।



