নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় ছিনতাইকারী সন্দেহে সিজান (২৫) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
শনিবার রাতে আল ফালাহ কল্যাণ সংগঠনের ৩০-৪০ জন সদস্য সিজানকে তার বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাকে মাসদাইর মোড়ে বিদ্যুতের খুঁটির সাথে বেঁধে স্টিলের পাইপ ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এ সময় তার সহযোগী অনিককেও মারধর করা হয়। সিজান অচেতন হয়ে পড়লে তাকে পরিবারের কাছে রেখে যায় সংগঠনের সদস্যরা। পরে তাকে খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অনিককে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ইমাম কাউসারের বক্তব্য
ভাইরাল ভিডিওতে আল ফালাহ কল্যাণ সংগঠনের সহ-সভাপতি ও আল ফালাহ মসজিদের ইমাম মুফতি কাউসার আহমেদ কাসেমীকে হ্যান্ডমাইকে বলতে শোনা যায়, 'মারছে কে? জনগণ মারছে। জনগণ যদি কোন কুত্তাকে মেরে ফেলে তার কোনও অন্যায় হবে? তার কোনও মামলা হবে? কোনও মামলা-হামলা কিচ্ছু হবে না।' তবে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, 'মারধরের সময় আমরা মসজিদে মাগরিবের নামাজে ছিলাম। নামাজ শেষে উত্তেজিত লোকজনকে শান্ত করে সিজানের স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছি। এ ঘটনার সাথে আমাদের সংগঠনের কেউ জড়িত ছিল না।' তিনি আরও দাবি করেন, সিজান নেশাগ্রস্ত ছিল এবং তাকে ভালো পথে ফিরিয়ে আনতে ৪০ দিনের চিল্লায় পাঠানো হয়েছিল।
পরিবারের বক্তব্য
নিহত সিজানের বাবা ইউনুছ মিয়া বলেন, 'স্থানীয় মসজিদের ইমাম কাউসারের নেতৃত্বে আল ফালাহ সংগঠনের সদস্যরা আমার ছেলেকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায়। তাকে বেধড়ক পিটিয়ে পা ভেঙে দেয়। পরে আমাদের চিকিৎসা করানোর কথা বলে চলে যায়। হাসপাতালে নিলে তার মৃত্যু হয়।'
পুলিশের অবস্থান
ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, 'এ ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি। ভুক্তভোগীর পরিবার মামলা করতে আসেনি। নিহতের বিরুদ্ধে মারামারির মামলা আছে, তবে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। ভাইরাল ভিডিও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।' নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, 'নিহতের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের মামলা নেই, তবে এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে সে ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত ছিল।'



