ইরানি রাষ্ট্রদূত: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠক শুধু ইসলামাবাদে, পাকিস্তানে পূর্ণ আস্থা
পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দাম স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যেকোনো আলোচনা বা দ্বিতীয় দফার বৈঠক শুধুমাত্র ইসলামাবাদেই অনুষ্ঠিত হবে। তিনি ইসলামাবাদের পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এই ঘোষণা দেন।
পাকিস্তানের প্রতি আস্থা, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অবিশ্বাস
রাষ্ট্রদূত মোগাদ্দাম জানান, পাকিস্তানের প্রতি ইরানের পূর্ণ আস্থা রয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তাদের কোনো বিশ্বাস নেই। তিনি বলেন, "এই অবস্থান আগেই ইসলামাবাদকে জানানো হয়েছে।" পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও ফিল্ড মার্শালের মধ্যস্থতামূলক উদ্যোগকে তিনি প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন, যা আঞ্চলিক শান্তি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ইরানের সংগ্রাম
বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত ইরানে বহিরাগত সন্ত্রাসবাদের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইরানে বহিরাগত সন্ত্রাসবাদের কারণে ১৭ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ নেতৃত্বের ব্যক্তিরাও রয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, সর্বোচ্চ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের ব্যক্তিত্বরা এই হামলার শিকার হয়েছেন।
ব্যাপক মানবিক ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও ইরান দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, "ইরান অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার করতে চায় না; বরং নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষাই আমাদের লক্ষ্য।"
পারমাণবিক কর্মসূচি ও আন্তর্জাতিক চাপ
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ বলেও দাবি করেন রাষ্ট্রদূত মোগাদ্দাম। তিনি বলেন, "ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে—এমন কোনো প্রমাণ এখনো কেউ দেখাতে পারেনি।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নিস্ট শক্তির ধারাবাহিক চাপের মুখে রয়েছে।
রাষ্ট্রদূতের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান নির্দেশ করে, যেখানে পাকিস্তানকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানের এই স্পষ্ট ঘোষণা আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।



