মালয়েশিয়ায় মানবপাচার চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার, আটক ২৭ বাংলাদেশি নাগরিক
মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের জড়িত একটি মানবপাচার চক্রের সন্ধান পেয়েছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাত ১২টা ৪০ মিনিটে পরিচালিত অভিযানে চক্রটির তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একইসঙ্গে ২৭ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে, যাদের অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় আনা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ
মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগের (জেআইএম) এনফোর্সমেন্ট শাখা কুয়ালালামপুরের আমপাং এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালায়। অভিযানে ‘গ্যাং আশরাফ’ নামে পরিচিত চক্রটিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয় কর্তৃপক্ষ। ওই বাসাটি অবৈধ অভিবাসীদের লুকিয়ে রাখা ও ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করতে প্রধান গেট ও দরজা ভাঙতে হয়। পরে সেখানে তল্লাশি চালিয়ে ২৭ জন বাংলাদেশিকে আটক করা হয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিরা তিনদিন আগে একটি প্রতিবেশী দেশে প্রবেশ করেন এবং সেখান থেকে অবৈধভাবে তাদের মালয়েশিয়ায় আনা হয়।
চক্রের কার্যক্রম ও আর্থিক লেনদেন
তদন্তে জানা গেছে, সিন্ডিকেটটি ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সক্রিয় রয়েছে। তারা তৃতীয় দেশের মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় এনে কেলান্তান সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশ করায় এবং পরে ক্লাং ভ্যালিতে এনে বিভিন্ন গন্তব্যে পাঠিয়ে দেয়। প্রতি অভিবাসীর কাছ থেকে প্রায় ৮,০০০ রিঙ্গিত পর্যন্ত আদায় করা হতো। এ পর্যন্ত সিন্ডিকেটটি প্রায় ২৪ লাখ রিঙ্গিত অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।
একইসঙ্গে আরও তিনজন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে, যারা এই সিন্ডিকেটের সদস্য এবং ট্রানজিট ঘরের তদারককারী হিসেবে কাজ করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আটক অভিবাসীদের বয়স ২০ থেকে ৪৯ বছরের মধ্যে। তাদের পুত্রজায়া ইমিগ্রেশন ডিপোতে রাখা হয়েছে এবং মানবপাচার ও অভিবাসী পাচারবিরোধী আইন ২০০৭ (অপটিজম) অনুযায়ী তদন্ত চলছে।
কর্তৃপক্ষের সতর্ক বার্তা
মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩, পাসপোর্ট আইন ১৯৬৬, ইমিগ্রেশন বিধিমালা ১৯৬৩ এবং অপটিজম আইনের আওতায় যেকোনো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে। বিভাগটি অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার বন্ধে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বলে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনায় বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তারা বলেছে, বৈধ পথে অভিবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত এবং কোনো প্রকার অবৈধ চক্রের সাথে জড়িত হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।



