ইরানের সামরিক বাহিনী মার্কিন প্রযুক্তি ও আর্থিক জায়ান্টদের লক্ষ্যবস্তু ঘোষণা করেছে
মধ্যপ্রাচ্যে কার্যক্রম পরিচালনাকারী যুক্তরাষ্ট্রের ১৮টি বড় প্রযুক্তি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে 'বৈধ লক্ষ্যবস্তু' হিসেবে ঘোষণা করেছে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। স্থানীয় সময় বুধবার (১ এপ্রিল) রাত ৮টা থেকে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর হামলা চালানো হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাহিনীটি। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও আশপাশে বসবাসকারী সাধারণ মানুষকে জরুরি ভিত্তিতে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের ঘোষণা
আইআরজিসির বিবৃতির বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ইরানের শীর্ষ নেতাদের হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আইআরজিসির দাবি, মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো, বিশেষ করে আইসিটি ও এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) খাতে কর্মরত কোম্পানিগুলো ইরানের ভেতরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ ও নজরদারির কাজে সরাসরি সহায়তা করছে। এর আগে এসব কোম্পানিকে সতর্ক করা হলেও তারা তা উপেক্ষা করেছে বলে অভিযোগ আইআরজিসির।
লক্ষ্যবস্তু প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা
আইআরজিসির এই হুমকির তালিকায় থাকা ১৮টি কোম্পানির মধ্যে রয়েছে বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম। তালিকায় উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:
- মাইক্রোসফট
- গুগল
- অ্যাপল
- ইন্টেল
- আইবিএম
- টেসলা
- বোয়িং
- এনভিডিয়া
- ওরাকল
- জেপি মর্গান
বাহিনীটির ভাষ্যমতে, 'ইরানের প্রতিটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় এসব কোম্পানির সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো ধ্বংসের মুখোমুখি হবে।' এই ঘোষণার মাধ্যমে আঞ্চলিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
নিরাপত্তা সংক্রান্ত সতর্কতা জারি
আইআরজিসি সরাসরি হামলার হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মী ও আশপাশের বাসিন্দাদের জন্য জরুরি নিরাপত্তা নির্দেশনা জারি করেছে। বাহিনীটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, হামলা শুরুর আগে পর্যন্ত এলাকা ত্যাগ করার জন্য সময় দেওয়া হচ্ছে। এই সতর্কতা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্পর্কে নতুন সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রযুক্তি ও আর্থিক খাতের উপর এই ধরনের হুমকি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। আইআরজিসির এই ঘোষণা কীভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা মোকাবেলা করে, তা এখন দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।



