ভারতে বড় হামলার ছক নস্যাৎ, গ্রেপ্তার ৮ সন্ত্রাসী, সাতজন বাংলাদেশি
ভারতে একটি বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেওয়ার দাবি করেছে দেশটির পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এই হামলা চক্রান্তে জড়িত পাকিস্তানি চরমপন্থি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার আট সদস্যকে ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের বরাতে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সাতজনই বাংলাদেশি নাগরিক।
গ্রেপ্তারকৃত বাংলাদেশিদের পরিচয়
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত সাত বাংলাদেশির পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। তারা হলেন:
- বগুড়ার মিজানুর রহমান (৩২ বছর)
- বগুড়ার জাহিদুল ইসলাম (৪০ বছর)
- বগুড়ার মোহাম্মদ লিটন (৪০ বছর)
- বগুড়ার মোহাম্মদ উজ্জ্বল (২৭ বছর)
- বগুড়ার উমর ফারুক (৩২ বছর)
- ঝালকাঠির মো. শাফায়েত হোসাইন (৩৪ বছর)
- ঠাকুরগাঁওয়ের রবিউল ইসলাম (২৭ বছর)
এছাড়াও, এই দলের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে চিহ্নিত শাব্বির আহমেদ লোনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, শাব্বির আহমেদ লোন কাশ্মীরের শ্রীনগরের বাসিন্দা এবং তিনি ২০০৭ সালে একে-৪৭ রাইফেল ও গ্রেনেডসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তিনি জামিনের আগে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিহার কারাগারে ছিলেন।
অভিযানের বিস্তারিত তথ্য
দুই মাস ধরে চালানো একটি ব্যাপক অভিযানে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ সীমান্ত, কলকাতা, দিল্লি এবং তামিলনাড়ু থেকে এই সন্ত্রাসী সদস্যদের গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, শাব্বির আহমেদ লোন বাংলাদেশে পালিয়ে ছিলেন এবং সেখান থেকে নেপাল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শাব্বিরকে বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি ঢাকার কাছের একটি আস্তানা থেকে লস্কর-ই-তৈয়বার একটি সেল পরিচালনা করছিলেন।
উদ্ধারকৃত সামগ্রী
গ্রেপ্তারকৃতদের অবস্থান থেকে পুলিশ নিম্নলিখিত সামগ্রী উদ্ধার করেছে:
- ১০টি মোবাইল ফোন
- ২৫টি ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড
- ৫টি পয়েন্ট অব সেল (পজ) মেশিন
- বাংলাদেশি পাসপোর্ট
- বেশ কিছু পোস্টার
এই সামগ্রীগুলি সন্ত্রাসী কার্যক্রমের প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
হামলার পরিকল্পনা ও নস্যাৎকরণ
ভারতের পুলিশের দাবি, এই চক্র ভারতে একটি বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। হামলার লক্ষ্য ও সময়সূচি এখনও প্রকাশ করা হয়নি, তবে কর্তৃপক্ষ জোর দিয়ে বলেছে যে তাদের তৎপরতা ও সতর্কতা এই পরিকল্পনা সম্পূর্ণরূপে নস্যাৎ করে দিতে সক্ষম হয়েছে। এই সাফল্য ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনাটি আঞ্চলিক সন্ত্রাসবাদ ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের এই অভিযান সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে তাদের সক্রিয় অবস্থানকে তুলে ধরেছে।



