ছিনতাইকারীর কাদায় আটকে পড়ার মর্মান্তিক ঘটনা: রামদা হাতে পাঁচ ঘণ্টার লড়াই
চট্টগ্রামের হালিশহরে এক অভিনব ঘটনায় পুলিশের হাত থেকে পালাতে গিয়ে ডোবায় লাফ দিয়ে কাদায় আটকে পড়েন এক ছিনতাইকারী। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে কাদার মধ্যে আটকে থাকার পর ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশ। আজ শুক্রবার দুপুরে হালিশহর থানার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার স্কাইভিউ টাওয়ার সংলগ্ন একটি ডোবায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশের ধাওয়া ও ডোবায় লাফ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. রুবেল। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক, ডাকাতির প্রস্তুতি, ছিনতাইসহ অন্তত আটটি মামলা রয়েছে। একটি মাদক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় আজ দুপুর ১২টার দিকে হালিশহর থানা পুলিশ রুবেলকে ধরতে অভিযানে যায়।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি দোকান থেকে তাঁকে ধাওয়া করলে রুবেল দৌড়ে একটি ভবনে উঠে পড়েন। সেখান থেকে নেমে পাশের একটি ডোবায় লাফ দেন। ডোবায় কাদার মধ্যে কোমর পর্যন্ত আটকে পড়েন তিনি। পুলিশ তাঁকে উঠে আসতে বললেও তিনি কাদার মধ্যে গড়াগড়ি করতে থাকেন।
রামদা হাতে আত্মহত্যার হুমকি
খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। একপর্যায়ে রুবেলের স্ত্রী একটি ছাতার আড়ালে তাঁকে একটি ধারালো রামদা দেন বলে জানা গেছে। পরে ছাতা সরাতেই রুবেল রামদা হাতে নিয়ে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের ভয় দেখাতে থাকেন এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন।
কাদায় আটকে থাকায় তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করতে পারেনি পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের একটি দলকে খবর দেওয়া হয়। তবে হাতে রামদা থাকায় রুবেল আত্মহত্যার হুমকিও দিতে থাকেন।
পাঁচ ঘণ্টা পর উদ্ধার ও গ্রেপ্তার
হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মুহাম্মদ সুলতান আহসান উদ্দিন বলেন, ‘গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় রুবেলকে ধরতে গেলে তিনি পালিয়ে ডোবায় পড়ে যান। পরে রামদা দিয়ে আত্মহত্যার হুমকি দেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর বাবা ও ভাইয়ের মাধ্যমে বুঝিয়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর তাঁকে ডোবা থেকে উঠিয়ে আনা হয়।’
পরে রুবেলকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, যা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সমন্বিত প্রচেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
এই ঘটনা অপরাধীদের চরিত্র ও পুলিশের চ্যালেঞ্জের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রুবেলের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোতে এই নতুন ঘটনা যোগ হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত আরও জোরদার হবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।



