চট্টগ্রামে নির্মাণাধীন ভবন থেকে চাঁদা আদায়ের ভিডিও ধারণ করে গ্রেপ্তার সাইদুল ইসলাম
চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামি থানার নয়াহাট এলাকা থেকে ১৫ মার্চ গ্রেপ্তার করা হয় সাইদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে। পুলিশের দাবি, তাঁর মুঠোফোনে নির্মাণাধীন ভবনের একটি ভিডিও পাওয়া গেছে, যেখানে তিনি বলছেন, ‘অনেক ভবন এখানে। ৫ থেকে ১০ কোটি টাকা খাওয়া যাবে। গুলি করতে হবে, যারা গাদ্দারি করে।’ এই ভিডিওটি সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের কাছে পাঠানোর জন্য ধারণ করা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ভিডিও ধারণের উদ্দেশ্য ও পুলিশের বক্তব্য
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সাইদুল ইসলাম চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে নির্মাণাধীন ভবনের ভিডিও ধারণ করে সাজ্জাদ আলীকে তথ্য সরবরাহ করতেন। এর বিনিময়ে তিনি প্রতি সপ্তাহে পাঁচ হাজার টাকা করে পেতেন। নির্মাণাধীন ভবন থেকে চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যেই এই ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
বায়েজিদ বোস্তামি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল কবির প্রথম আলোকে বলেন, ‘গ্রেপ্তার সাইদুল ইসলামের মুঠোফোনে নির্মাণাধীন ভবনের একাধিক ভিডিও পাওয়া গেছে। তিনি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সন্ত্রাসী সাজ্জাদের জন্য ভিডিও ধারণের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাইদুল ইসলাম ভবন থেকে কত টাকা চাঁদা আদায় করা যাবে, মালিকের পরিচয় এবং চাঁদা না দিলে কী করণীয়, সে বিষয়েও ধারণা দিতেন।
সাজ্জাদ আলীর সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ও চাঁদাবাজির অভিযোগ
সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর বাহিনীর বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগরজুড়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। পুলিশ জানায়, সাজ্জাদ আলীর কাছে সাইদুল ইসলামের মতো অন্তত অর্ধ শতাধিক সোর্স রয়েছেন, যাঁরা নগরের বায়েজিদ বোস্তামি, চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ, হাটহাজারী, চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনের তথ্য সরবরাহ করেন।
সর্বশেষ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের চন্দনপুরা এলাকায় স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের বাসায় গুলি চালানোর ঘটনায় সাজ্জাদ আলীর অনুসারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। পুলিশের মতে, কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন তারা। এর আগে ২ জানুয়ারিও একই বাসায় গুলি চালানো হয়েছিল।
সাজ্জাদ আলীর অপরাধজগতের ইতিহাস
সাজ্জাদ আলী খান মূলত অপরাধজগতে পরিচিত হন ১৯৯৯ সালে কাউন্সিলর লিয়াকত আলী খান খুনের পর। ২০০০ সালের ১২ জুলাই বহদ্দারহাটে ‘এইট মার্ডার’ নামে পরিচিত হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাজ্জাদ আলী বর্তমানে ইন্টারপোলের মোস্ট ওয়ান্টেড আসামির তালিকায় রয়েছেন এবং বিদেশ থেকে তাঁর সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করছেন।
পুলিশের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, ‘দীর্ঘ দুই দশক ধরে দেশের বাইরে বসেই সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী নিয়ন্ত্রণ করছেন নগর ও জেলার বিস্তৃত সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক।’ ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে জেলায় জোড়া খুনসহ ১০টি খুনে সাজ্জাদের অনুসারীদের নাম উঠে এসেছে বলে পুলিশ দাবি করে।
গ্রেপ্তার ও তদন্তের অগ্রগতি
ওসি জাহেদুল কবির বলেন, ‘গ্রেপ্তার সাইদুলকে রিমান্ডে এনে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’ নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ প্রথম আলোকে জানান, খুনের মামলার বেশির ভাগ আসামিকে পুলিশ ধরেছে এবং বড় সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে চেষ্টা চলছে।
এই ঘটনায় পুলিশের তদন্ত এখনও চলমান, এবং সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার জন্য ব্যাপক অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।



