ভারতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিধ্বস্ত: ঝাড়খণ্ডে সাত আরোহীর মৃত্যু, রোগী স্থানান্তর ছিল উদ্দেশ্য
ভারতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিধ্বস্ত, সাতজন নিহত

ভারতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিধ্বস্ত: ঝাড়খণ্ডে সাত আরোহীর মৃত্যু, রোগী স্থানান্তর ছিল উদ্দেশ্য

ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিধ্বস্ত হয়ে সাত আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় চাতরা জেলার সিমারিয়া এলাকার কাছে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। রাজ্য সরকারের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, উড়োজাহাজটি রাঁচি থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে বিধ্বস্ত হয়।

দুর্ঘটনার সময় ও স্থান

বেসরকারি উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা রেডবার্ড এয়ারওয়েজ পরিচালিত এই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে রাঁচি বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। ঝাড়খণ্ডের চাতরা জেলার উপকমিশনার কীর্তিশ্রী জি জানিয়েছেন, সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটের দিকে উড়োজাহাজটি নিখোঁজ হয় এবং পরে সিমারিয়ার ঘন জঙ্গলঘেরা বারিয়াতু পঞ্চায়েত এলাকায় আছড়ে পড়ে।

নিহতদের পরিচয় ও উদ্ধারকাজ

উপ–বিভাগীয় পুলিশ কর্মকর্তা (এসডিপিও) শুভম খন্ডেলওয়াল নিশ্চিত করেছেন, সাত জনের মরদেহই উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন—ক্যাপ্টেন বিবেক বিকাশ ভগত, ক্যাপ্টেন সরাজদীপ সিং, সঞ্জয় কুমার, বিকাশ কুমার গুপ্ত, শচীন কুমার মিশ্র, অর্চনা দেবী ও ধুরু কুমার। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্ঘটনার সময় এলাকায় প্রচণ্ড বাতাস, ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাত হচ্ছিল। ঝড়ের মধ্যে বিকট শব্দে উড়োজাহাজটি আছড়ে পড়ে বলে তারা উল্লেখ করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রোগী স্থানান্তরের উদ্দেশ্য

রাঁচির দেবকমল হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অনন্ত সিনহা প্রকাশ করেছেন, লাতেহার জেলার বাসিন্দা সঞ্জয় কুমারের (৪১) জন্য এই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি শরীরের ৬৫ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রোগীর এক স্বজন বিজয় কুমার সাংবাদিকদের বলেন, ‘চিকিৎসক বলেছিলেন, সড়কপথে নিলে রোগী পথেই মারা যেতে পারেন। তাই আমরা এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের সিদ্ধান্ত নিই। পরে সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারি, উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়েছে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ

রাঁচি বিমানবন্দরের পরিচালক বিনোদ কুমার জানিয়েছেন, উড্ডয়নের প্রায় ২০ মিনিট পর এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে উড়োজাহাজটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তিনি প্রতিকূল আবহাওয়াকে দুর্ঘটনার একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পরেই প্রকৃত কারণ জানা যাবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বর্ণনা অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছিল, যা উড়োজাহাজের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করতে পারে।

এই ঘটনাটি ভারতের বিমান নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, বিশেষ করে চিকিৎসা জরুরি অবস্থায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহারের ক্ষেত্রে। কর্তৃপক্ষ এখন বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।