মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি পরিচিত ডাকনাম ছিল ‘টাকো’। এর অর্থ হলো ‘ট্রাম্প অলওয়েজ চিকেনস আউট’ (ট্রাম্প সব সময় পিছিয়ে যান)। আক্রমণাত্মক হুমকি দিয়ে পরে পিছিয়ে আসার স্বভাবের কারণে তাকে এই নামে ডাকা হতো। তবে হরমুজ প্রণালির বর্তমান সংকটে তার কপালে জুটেছে আরও এক নতুন নাম, ‘নাচো’। যার পূর্ণরূপ হলো ‘নট অ্যা চান্স হরমুজ ওপেনস’ (হরমুজ খোলার কোনও সুযোগই নেই)।
নতুন ডাকনামের উৎপত্তি
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের কলামিস্ট হাভিয়ের ব্লাস এই নতুন নামটি সামনে এনেছেন। তিনি জানান, হরমুজ প্রণালিতে দফায় দফায় অবরোধের ফলে তেলের প্রবাহ ব্যাহত হওয়া এবং গ্যাসের দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ কতটা বিরক্ত, এই নাম তারই বহিঃপ্রকাশ। এটি একই সঙ্গে ইঙ্গিত দেয় যে, ট্রাম্প কোনও চুক্তি করতে পারবেন, এমন আত্মবিশ্বাসও মানুষের নেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ব্লাস লিখেছেন, “আমরা ভেবেছিলাম আমরা ‘টাকো’ পাচ্ছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা যা পাচ্ছি তা হলো ‘নাচো’।”
পূর্ববর্তী ডাকনাম ‘টাকো’
এর আগে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের একজন কলামিস্ট ‘টাকো’ নামটি দিয়েছিলেন। তিনি লক্ষ্য করেছিলেন, ট্রাম্পের হুমকিগুলো বাজারে অস্থিরতা তৈরি করলেও পরে যখন তিনি পিছু হটেন, তখন বাজার আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে। গত বছর এই ডাকনাম সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প একে ‘সবচেয়ে জঘন্য প্রশ্ন’ বলে অভিহিত করেছিলেন। ট্রাম্পের দাবি ছিল, তার এই কৌশল আসলে ‘এক ধরনের আলোচনা’। তিনি বলেছিলেন, “আমি পিছিয়ে যাই? ওহ, আমি এমন কথা কখনও শুনিনি।”
ইতিবাচক ব্যাখ্যা
অবশ্য গত মাসের শুরুতে ফক্স নিউজের উপস্থাপক গ্রিফ জেনকিন্স ‘নাচো’ শব্দটির একটি ইতিবাচক ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। তার মতে এর অর্থ ‘নেভার অ্যাভয়েডস কনফ্রনটিং হার্ড অবস্টাকলস’ (কঠিন বাধা মোকাবিলায় তিনি কখনও পিছপা হন না)।
ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি
এদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এক লিখিত বিবৃতিতে আমেরিকার তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, পারস্য উপসাগরে আমেরিকানদের একমাত্র জায়গা হলো ‘সমুদ্রের তলদেশ’।
পারস্য উপসাগর দিবস উপলক্ষে দেওয়া বিবৃতিতে খামেনি বলেন, “আল্লাহর সাহায্য ও শক্তিতে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ভবিষ্যৎ হবে আমেরিকামুক্ত। এটি হবে এ অঞ্চলের মানুষের অগ্রগতি, স্বাচ্ছন্দ্য ও সমৃদ্ধির ভবিষ্যৎ।” তিনি পারস্য উপসাগরকে ‘ঐশ্বরিক আশীর্বাদ’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বিশ্ব বাণিজ্যে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব তুলে ধরেন। ১৬২২ সালে পর্তুগিজ ঔপনিবেশিক বাহিনীকে হরমুজ দ্বীপ থেকে বিতাড়িত করার ঐতিহাসিক বিজয় স্মরণে এই দিবসটি পালন করা হয়।
পার্লামেন্ট স্পিকারের বক্তব্য
একই সুরে কথা বলেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। বৃহস্পতিবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে ইরান এ অঞ্চলকে মার্কিন হস্তক্ষেপমুক্ত করবে। তিনি বলেন, ‘আজ হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ইরান নিজেকে এবং প্রতিবেশীদের এমন এক ভবিষ্যতের আশীর্বাদ দেবে যেখানে আমেরিকানদের কোনও উপস্থিতি বা হস্তক্ষেপ থাকবে না।’



