কুমিল্লায় মসজিদ তালা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১০
কুমিল্লায় মসজিদ তালা খোলা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১০

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় বন্ধ মসজিদের তালা খোলা নিয়ে তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার বিকেলে উপজেলার পশ্চিম হুগুলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মসজিদের তালাবদ্ধ অবস্থা

ওই গ্রামের মারকাজ মসজিদটি গত ২২ মার্চ থেকে তালাবদ্ধ রয়েছে। এতে মসজিদটিতে নামাজ আদায় বন্ধ রয়েছে। গতকাল বিকেল চারটার দিকে মাওলানা জোবায়েরের সমর্থকেরা (আলেম সমাজ) ব্যানার নিয়ে মসজিদের সামনে এসে সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। তাঁরা মসজিদের তালা খোলার চেষ্টা চালান।

সংঘর্ষের ঘটনা

এ সময় মাওলানা সাদ কান্ধলভীর সমর্থকেরা তাঁদের বাধা দেন এবং সংঘর্ষ বাধে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রশাসনের অবস্থান

দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছরীন আক্তার বলেন, ৩০ এপ্রিল তাবলিগের বিবদমান দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসা হবে। এর আগে কিছুই বলা যাচ্ছে না।

মসজিদের ইতিহাস

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পশ্চিম হুগুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা হাজী জৈনউদ্দিন ১৯২২ সালের ১৩ অক্টোবর ৩১৫ শতক জমি মসজিদের নামে ওয়াক্ফ করেন। ওই জমিতে স্থানীয় লোকজনের অর্থায়নে ২০১২ সালে মারকাজ মসজিদ নির্মাণ করা হয় এবং ২০১৪ সাল থেকে সেখানে নামাজ আদায় শুরু হয়। মসজিদটিতে একসঙ্গে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।

পক্ষগুলোর বিবাদ

২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সাদপন্থীরা মসজিদটি পরিচালনা করেন। পরে জুবায়েরপন্থীরা অংশীদারত্ব দাবি করলে উপজেলা প্রশাসন দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে পৃথকভাবে ইবাদতের সিদ্ধান্ত দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লে সহিংসতার আশঙ্কায় মসজিদটি তালাবদ্ধ রাখা হয় বলে এক পক্ষ দাবি করেছে। তবে এ বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য ভিন্ন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয়দের অভিযোগ

স্থানীয় সাদপন্থী কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, ওয়াক্ফ সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চলছে এবং বহিরাগত ব্যক্তিরা এতে জড়িত। অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, সাদপন্থীরা জোরপূর্বক মসজিদ নিয়ন্ত্রণে নিতে চাইছেন এবং প্রশাসনের নির্দেশ ছাড়াই তালা দেওয়া হয়েছে।

ওয়াক্ফ জমিতে প্রতিষ্ঠিত দারুস সুন্নাহ আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মুফতি শাখাওয়াত হোসাইন রাজীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

বিবাদের আরেক দিক

হুগুলিয়া গ্রামের এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সাদপন্থীরা জোর করে ওয়াক্ফ জায়গায় মারকাজ মসজিদ নির্মাণ করেছেন। এ নিয়ে জুবায়েরপন্থীদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। পরে ধর্ম মন্ত্রণালয় চিঠির মাধ্যমে সাদপন্থীদের মারকাজ মসজিদে প্রবেশ করা নিষেধ করা হয়। কিন্তু এরপরও সাদপন্থীরা বল প্রয়োগের মাধ্যমে এককভাবে মারকাজ মসজিদ ও মাদ্রাসা দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। সাদপন্থীরা মসজিদে তালা দিয়ে প্রচার করছেন প্রশাসনের নির্দেশে এটি করা হয়েছে।