রাজশাহীর দুইজনকে লিবিয়ায় উদ্ধার, মানবপাচার চক্রের তিনজন গ্রেফতার
রাজশাহীর দুইজনকে লিবিয়ায় উদ্ধার, পাচারচক্রের তিনজন গ্রেফতার

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার দুই যুবক উন্নত জীবনের আশায় স্থানীয় দালালচক্রের হাতে ১০ লাখ টাকা দিয়ে ইতালি যাওয়ার কথা বলে লিবিয়ার যুদ্ধবিধ্বস্ত শহর বেনগাজিতে পাচার হয়েছিলেন। সেখানে দীর্ঘদিন আটকে রেখে তাদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে পরিবারের কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি করা হয়।

ভুক্তভোগী ও গ্রেফতার

ভুক্তভোগী দুজন হলেন বীরকুৎসা গ্রামের মৃত কসিরুদ্দিনের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (৪৫) এবং গোপীনাথপুর গ্রামের বাবুলের ছেলে জিসান (২২)। ঘটনায় মামলার পর পুলিশ কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে পাচারচক্রের তিন সদস্যকে আটক করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে লিবিয়ায় সক্রিয় মূল চক্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়।

উদ্ধার অভিযান

পুলিশের তৎপরতায় শুক্রবার আব্দুর রাজ্জাক ও জিসানকে ত্রিপোলীতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাছে ছেড়ে দেয় পাচারকারীরা। বর্তমানে তারা লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাসের হেফাজতে রয়েছেন। নথিপত্র প্রস্তুত করে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলার বিবরণ

পুলিশ ও মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত বছর ওই দালালচক্রের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা করে দিয়ে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়েন রাজ্জাক ও জিসান। প্রথমে তাদের ঢাকায় নিয়ে দুবাই পাঠানো হয়। পরে ইতালির পরিবর্তে লিবিয়ায় নিয়ে গিয়ে মানবপাচারকারী আন্তর্জাতিক চক্রের কাছে হস্তান্তর করা হয়। লিবিয়ায় তাদের গোপন বন্দিশালায় আটকে রেখে নিয়মিত নির্যাতন করা হয়। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি পরিবারের কাছে নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে পাচারকারীরা। ইসলামী ব্যাংকের ভৈরব শাখার একটি হিসাব নম্বরে টাকা জমা দিতে বলা হয়, অন্যথায় হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

পরিবারের সদস্যরা জমিজমা বিক্রি ও ঋণ করে গত মার্চে ২০ লাখ টাকা ওই হিসাবে জমা দেন। এরপরও আরও টাকা দাবি করে নতুন ভিডিও পাঠানো হয়। পরে বাধ্য হয়ে পরিবার বাগমারা থানায় মামলা করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গ্রেফতার ও আইনি প্রক্রিয়া

বাগমারা থানার ওসি জিল্লুর রহমান জানান, তদন্তে প্রথমে ব্যাংক হিসাবধারী আল মামুনকে (৩৮) আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আব্দুল করিম (৪৮) ও পরিস্কার বেগম (৫৫) নামের আরও দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি বলেন, আমরা পুলিশ সদর দপ্তরের মাধ্যমে ত্রিপোলীর বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয়েছি যে রাজ্জাক ও জিসান বর্তমানে দূতাবাসের হেফাজতে রয়েছে। অন্যদিকে শনিবার তাদের মানবপাচার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।