ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্প্রতি সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘ড্রোন চুক্তি’ স্বাক্ষরের তথ্য প্রকাশ করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই চুক্তির বিস্তারিত জানান। চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো উপসাগরীয় দেশগুলোতে সাশ্রয়ী মূল্যের ড্রোন এবং ড্রোন ইন্টারসেপ্টর তৈরিতে সহায়তা করা।
চুক্তির পটভূমি
গত মে মাসের শেষের দিকে জেলেনস্কি উপসাগরীয় দেশগুলো সফর করেছিলেন। তবে ওই সময় চুক্তির বিষয়বস্তু নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সম্প্রতি সেই সফরের ফলস্বরূপ এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে জানান তিনি।
ড্রোন প্রযুক্তির গুরুত্ব
জেলেনস্কি বলেন, ‘ইরানের নকশায় তৈরি স্বল্পমূল্যের শাহেদ ড্রোনগুলো ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলারে পাওয়া যায়। এগুলো ধ্বংস করতে ৩-৪ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজন নেই, বরং ১০ হাজার ডলার মূল্যের ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেই তা সম্ভব।’ তিনি আরও জানান, উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিজেদের সুরক্ষায় সহায়তা করতেই তিনি এই উদ্যোগ নিয়েছেন।
চুক্তির শর্তাবলি
এ মাসের শুরুর দিকে জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, ড্রোন প্রযুক্তি বিনিময়ের বিপরীতে ইউক্রেন তার জ্বালানি অবকাঠামো রক্ষার জন্য বিমান প্রতিরক্ষা অস্ত্র, তেল, ডিজেল এবং কিছু ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা পাবে। তবে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা এখনও এই চূড়ান্ত চুক্তির বিস্তারিত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেননি।
এই চুক্তি ইউক্রেনের জন্য একটি কৌশলগত পদক্ষেপ, যা দেশটিকে যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন হুমকি মোকাবিলায় সহায়তা করবে এবং একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর সুরক্ষা জোরদার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।



